Ad-1

Thursday, October 31, 2019

ফজিলাতুন্নেসা জোহা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী।।।

১৯৫৬ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে ছিলো, একটা ছেলে যদি একজন মেয়ের সাথে কথা বলতে চায়, তবে তাকে প্রক্টর বরাবর দরখাস্ত দিতে হবে। শুধুমাত্র প্রক্টর অনুমতি দিলেই সে কথা বলতে পারবে। এছাড়া নয়। এমনকি তার ক্লাসের কোন মেয়ের সাথেও না।

ডিসেম্বর ১৯২৭, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাত্র ৬ বছর পর। একদিন কোলকাতা থেকে একজন যুবক এলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখবেন। কয়েকজন বন্ধু বান্ধব নিয়ে সে ঘুরতে বের হলো। তখন কার্জন হল ছিলো বিজ্ঞান ভবন। ঘুরতে ঘুরতে যখন কার্জন হলের সামনে এসে পড়লো তারা, সে যুবক দেখলো দূরে একটা থ্রী কোয়ার্টার হাতার ব্লাউজ আর সুতির শাড়ি পরা এক মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সে তার বন্ধুদের জিজ্ঞেস করলেন, এই মেয়েটি কে? তখন তার বন্ধুরা বলল, এ হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম নারী ছাত্রী। তখন সেই যুবক বলে, সত্যি? আমি এই মেয়ের সাথে কথা বলব। তখন সে যুবক মেয়েটির সাথে কথা বলার জন্য একটু এগিয়ে গেলে তার বন্ধুরা তাকে বাঁধা দেয়। বলে, না তুমি যেওনা। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের সাথে কথা বলার অনুমতি নেই। তুমি যদি ওর সাথে অনুমতি ছাড়া কথা বলো তবে তোমার শাস্তি হবে। সেই যুবক বলল, "আমি মানি নাকো কোন বাঁধা, মানি নাকো কোন আইন।"সেই যুবক হেঁটে হেঁটে গিয়ে সেই মেয়েটির সামনে দাঁড়ালো। তারপর তাকে বলল, আমি শুনেছি আপনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম নারী ছাত্রী। কি নাম আপনার? মেয়েটি মাথা নিচু করে বলল, ফজিলাতুন্নেছা। জিজ্ঞাসা করলো, কোন সাবজেক্টে পড়েন? বলল, গণিতে। গ্রামের বাড়ি কোথায়? #টাঙ্গাইলের_করটিয়া। ঢাকায় থাকছেন কোথায়? সিদ্দিকবাজার। এবার যুবক বললেন, আপনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম নারী ছাত্রী, আপনার সাথে কথা বলে আমি খুব আপ্লুত হয়েছি। আজই সন্ধ্যায় আমি আপনার সাথে দেখা করতে আসবো। মেয়েটি চলে গেলো। এই সব কিছু দূরে দাঁড়িয়ে এসিস্ট্যান্ট প্রক্টর স্যার দেখছিলেন। তার ঠিক তিনদিন পর। ২৯ ডিসেম্বর ১৯২৭, কলা ভবন আর বিজ্ঞান ভবনের নোটিশ বোর্ডে হাতে লেখা বিজ্ঞপ্তি টানিয়ে দেয়া হলো যুবকের নামে। তার নাম লেখা হলো, তার বাবার নাম লেখা হলো এবং বিজ্ঞপ্তিতে বলা হলো, এই যুবকের আজীবনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ।

তারপরে এই যুবক আর কোনদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেননি। সেইদিনের সেই যুবক, বৃদ্ধ বয়সে ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট মৃত্যুবরণ করলেন। যে যুবকটা আর কোনদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ করেননি, তার মৃত্যুর পরে তার কবর হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

সেই যুবকের নাম, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

পুনশ্চ: মেয়েটি
ফজিলাতুন্নেসা জোহা,
কবি নজরুল ওনাকে নিয়ে 'বর্ষা বিদায়' কবিতা লেখেন।

টাঙ্গাইলের সদর থানার নামদার কুমুল্লী গ্রামে জন্ম নেয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোক উদ্ভাসিত কারি, মহিয়সী নারী বেগম ফজিলতুন্নেসা জোহা ।

বেগম ফজিলতুন্নেসা জোহা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলমান ছাত্রী ও ঢাকা ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন (১৯৪৮-৫৭)। তিনিই প্রথম বাঙালি মুসলমান ছাত্রী যিনি উচ্চ শিক্ষার্থে স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে যান।
বেগম ফজিলতুন্নেসা সম্পর্কে পরিচয় পাওয়া যায় কাজী মোতাহার হোসেনের লেখা থেকে....
“ বেগম ফজিলতুন্নেসা অসামান্য সুন্দরীও ছিলেন না অথবা বীনানিন্দিত মঞ্জুভাষিণীও ছিলেন না। ছিলেন অঙ্কের এম এ এবং একজন উচুঁদরের বাক্‌পটু মেয়ে ”জন্ম
বেগম ফজিলতুন্নেসার জন্ম ১৮৯৯ সালে টাঙ্গাইল জেলার সদর থানার নামদার কুমুল্লী গ্রামে। পিতার নাম ওয়াজেদ আলী খাঁ, মাতা হালিমা খাতুন।।
ওয়াজেদ আলী খাঁ মাইনর স্কুলের শিক্ষক ছিলেন।

শিক্ষা

মাত্র ৬ বছর বয়সে ওয়াজেদ আলী খাঁ
ফজিলতুন্নেসাকে করটিয়ার প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি করে দেন। তিনি ১৯২১ সালে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক ও ১৯২৩ সালে প্রথম বিভাগে ইডেন কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। ফজিলাতুন্নেছা ১৯২৫ সালে কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে
প্রথম বিভাগে বিএ পাস করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৭ সালে গণিত শাস্ত্রে এমএ-তে ফার্স্ট ক্লাশ
ফার্স্ট (গোল্ড মেডালিস্ট) হয়েছিলেন।
অতঃপর তিনি ১৯২৮ সালে বিলেতে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য গমন করেন।
নিখিল বঙ্গে তিনিই প্রথম মুসলিম মহিলা গ্র্যাজুয়েট। উপমহাদেশে মুসলিম মহিলাদের মধ্যে তিনিই প্রথম বিলাত থেকে ডিগ্রি এনেছিলেন। তাঁর পড়াশোনার ব্যাপারে করটিয়ার জমিদার মরহুম ওয়াজেদ আলী খান পন্নী (চাঁদ মিয়া) বিশেষ উৎসাহ ও অর্থ সাহায্য করেন।
বিলেতে তাঁর অবস্থান কালীন সময়ে
ভারতীয় মুসলমানদের মাঝে প্রথম ডিপিআই।

পরিবার
-------------

বিদেশে পড়ার সময় ফজিলতুন্নেসার সাথে খুলনা নিবাসী আহসান উল্ল্যাহর পুত্র জোহা সাহেবের সাথে ফজিলাতুন্নেছার পরিচয় হয়। পরে উভয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
কর্মজিবনে তার অসামান্য ‍অবদান
লন্ডন থেকে ফিরে ১৯৩০ সালে তিনি কলকাতায় প্রথমে স্কুল ইন্সপেক্টরের চাকুরিতে যোগদান করেন। ১৯৩০ সালের আগস্টে কলকাতার অ্যালবার্ট হলে অনুষ্ঠিত ‘বঙ্গীয় মুসলিম সমাজ-সেবক-সংঘে’র বার্ষিক অধিবেশনে সভাপতি হিসেবে তাঁর বক্তব্যটি নারী
জাগরণের মাইল ফলক হয়ে আছে।
এই অধিবেশনে তিনি বলেন ‘নারী-শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে অনেকেই অনেক কথা বলেছেন ও বলেন। নারী সমাজের অর্ধাঙ্গ, সমাজের পূর্ণতালাভ কোনোদিনই নারীকে বাদ দিয়ে সম্ভব হতে পারে না।
সেই জন্যেই আজ এ সমাজ এতোটা পঙ্গু হয়ে পড়েছে। তিনি আরো বলেন,
The highest form of society is one in which every man and woman is free to develop his or her individuality and to enrich the society what is more characteristic of himself or herself.

কাজেই এ সমাজের অবনতির প্রধান কারণ নারীকে ঘরে বন্দি করে রেখে তার Individuality বিকাশের পথ রুদ্ধ করে রাখা। নারী-শিক্ষা সম্বন্ধে এতোটা কথা আজ বলছি তার কারণ সমাজের গোড়ায় যে-গলদ রয়েছে সেটাকে দূরীভূত করতে
না-পারলে সমাজকে কখনই সুন্দর করে গড়ে তুলতে পারা যাবে না।’
তিনি ১৯৩৫ সালে বেথুন কলেজে গণিতের অধ্যাপক হিসাবে যোগদান করেন।
বেথুন কলেজে চাকুরিরত অবস্থায় দেশবিভাগের পর তিনি ঢাকায় চলে এসে ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন ১৯৪৮ সালে। বেগম ফজিলাতুন্নেছা ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত ঢাকা
ইডেন কলেজের অধ্যক্ষা ছিলেন। বেগম ফজিলাতুন্নেছার অক্লান্ত পরিশ্রম ও চেষ্টায় বিজ্ঞান ও বাণিজ্যিক বিভাগসহ ইডেন কলেজ ডিগ্রি পর্যায়ে উন্নীত হয়।১৯৫২ সালে ইডেন কলেজের মেয়েরা রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে কলেজের অভ্যন্তর থেকে মিছিল বের করার প্রস্ত্ততি নিলে উর্দুভাষী এক দারোগা হোস্টেলে ঢুকে মেয়েদের ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করার এক পর্যায়ে
খবর পেয়ে বেগম ফজিলাতুন্নেছা কলেজে এসে তার বিনানুমতিতে কলেজ প্রাঙ্গণে ঢোকার জন্য দারোগাকে ভৎসনা করে হোস্টেল থেকে বের করে দেন নিজের দৃঢ়তা ও প্রশাসনিক ক্ষমতার বলে।
নারীশিক্ষা ও নারীমুক্তি সম্পর্কে সওগাতসহ অনেক পত্রিকায় তার বিভিন্ন প্রবন্ধ, গল্প প্রকাশিত হয়।

মৃত্যু

এই বিদুষী নারী ১৯৭৭ সালে ২১ অক্টোবর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। এই মহীয়সী নারীর স্মৃতি রক্ষার্থে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৮৭ সালে ফজিলাতুন্নেছার
নামে হল নির্মাণ করা হয়।

#সংগৃহীত

Monday, October 21, 2019

দেওয়ানী কার্যবিধি ও তামাদি আইন প্রশ্ন - ২০১৬

১. (ক)“প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে নিষেধ না থাকলে দেওয়ানী আদালত সমূহ শুধুমাত্র দেওয়ানী প্রকৃতির মামলার বিচার করবে” - উক্তিটি ব্যাখ্যা করো[pg-181]
(খ)দেওয়ানী কার্যবিধির কোন কোন ধারা 1887 সালের “স্মল কজ কোর্টস" এ্যাক্ট এর অধীনে গঠিত আদালতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় ব্যাখ্যা করো।[pg-261]
২. রায়, ডিক্রি ও আদেশের সংজ্ঞা দাও এদের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করো। রায় পূর্ববর্তী এবং রায়-পরবর্তী ক্রুক বলতে কি বুঝ? মূল ডিক্রির বিরুদ্ধে কিভাবে আপিল করা যায় ব্যাখ্যা করো।[pg--320]
৩. প্রতিনিধিত্বমূলক মামলা বলতে কী বোঝায়?
কোন ধরনের বিষয়ে এবং কিভাবে এরূপ মামলা করা যায়? সরকারের বিরুদ্ধে এরূপ মামলা রুজু করা যায় কি?যদি যায় তবে কখন এবং কি প্রকারে?
৪. বাংলাদেশের দেওয়ানী আদালত সমূহের অবকাঠামো গঠন ও এখতিয়ার আলোচনা করো। অধিকতর কম খরচ ও দ্রুত বিচারের জন্য তুমি কি আদালত ব্যবস্থার অবকাঠামো কোনো পরিবর্তনের প্রস্তাব করবে?[pg-260]
৫. একতরফা ডিক্রি বলতে কী বোঝো? মামলার শুনানির দিন উভয় পক্ষের কিংবা যে কোন একপক্ষের অনুপস্থিত থাকার ফলাফল কি? যে বিবাদীর বিরুদ্ধে একতরফা ডিক্রি দেওয়া হয়েছে কিংবা অনুপস্থিত থাকার কারণে যে বিবাদীর বিরুদ্ধে মামলা খারিজ হয়েছে তারা কি কি প্রতিকার লাভ করতে পারে? একটি পক্ষের অনুপস্থিতির জন্য সাধারণত কি কি কারণ হিসেবে গণ্য করা হয়?[Pg-284]
৬. একটি মামলার বিচার্য বিষয় বলতে তুমি কি বুঝ? প্রকারভেদ আলোচনা করো। কোন কোন বিষয়ের ভিত্তিতে একটি মামলার বিচার্য বিষয় প্রণীত হয়? বিচার্য বিষয় সংশোধন ও বাদ দেয়ার ক্ষেত্রে আদালতের ক্ষমতা বর্ণনা করো Pg - 300
৭. প্লিডিংস কি?একটি মামলার আরজিতে কি কি বিষয় উপস্থাপন করা প্রয়োজন?কখন একটি মামলার আরজি ফেরত প্রত্যাখ্যান করা যায়?আরজি প্রত্যাখ্যানের ফলাফল কি? [Pg-201]

খ- বিভাগ
৮. একটি আপিল ভুলক্রমে একটি ভুল আদালতে দায়ের করা হয়। পরে আপেলটি সঠিক আদালতে দায়ের করা হয়, কিন্তু ইতিমধ্যে আপিল দায়ের সময়সীমা পার হয়ে যায়। এক্ষেত্রে তামাদি আপিলকারী এর কোন প্রতিকার আছে? আলোচনা করো।[pg--338]
৯. তামাদি হওয়া কোন দাবি পরিশোধ করিলে উহা কি পুনরুদ্ধারে তামাদি আইনে কিভাবে “ইজমেন্ট” অধিকার অর্জন করা যায়? কখন কোন ব্যক্তি দলিল ব্যতীত অন্যের স্থাবর সম্পত্তিতে স্বত্ব অর্জন করতে পারে?

Saturday, October 19, 2019

রাতের গহীনে যাকে নিয়ে এত কল্পনা করি
স্বপ্ন দেখি
দিনের বেলায় তার চোখে চোখ রাখতে লজ্জা পাই।

Wednesday, October 16, 2019

রবীন্দ্রনাথের 'নৌকাডুবি '- উপন্যাসের সার সংক্ষেপ

নৌকাডুবি (১৯০৬)
চরিত্র ও তথ্য সমূহ
১. রমেশঃকলকাতা/Law/বাবার চিঠি/
২. হেমনলিনীঃমাতৃহীন/
৩. কমলাঃ
৪. ডাক্তার নলিনাক্ষঃ
* গঙ্গার প্রবল ঘুর্ণিঝড় 
Oh what a climax! ধীরে ধীরে চরম উত্তেজনায় পৌঁছে দিতে রবী ঠাকুর অনবদ্য।নোবেল বিজয়ী রবীন্দ্রনাথের সামাজিক উপন্যাস নৌকা ডুবি(১৯০৬)।
.
উপন্যাসের নায়ক রমেশ কলকাতায় Law পড়তে গিয়ে পরিচয় ঘটে নায়িকা হেমনলিনীর সাথে। সংস্কৃতিমনা, শিক্ষিত, রুচিশীল মাতৃহীনা নারী হেম বাবার অতি আশকারার দুলালী।রবীন্দ্রনাথ হেমের বাবাকে বন্ধুর আসনে বসিয়ে তৎকালিন মার্জিত পিতার চমকপ্রদ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
.
হঠাৎ বাবার চিঠি পেয়ে নায়ক রমেশ বাড়িতে গিয়ে জানতে পারলো অশিক্ষিত দরিদ্র্য এক গ্রাম্য মেয়ের সাথে তার বিয়ে নির্ধারিত হয়েছে। হেমকে ভালবাসে এমন কথা রমেশ তার বাবাকে বললেও, পরিস্থিতি অতটাই জটিল হলো যে রমেশ ঐ নিরক্ষর মেয়েকেই বিয়ে করতে বাধ্য হলো। উপন্যাসের ক্লাইমেক্স শুরু এখান থেকেই। বিয়ে শেষে বরযাত্রী যখন কনে নিয়ে গঙ্গার পার হচ্ছিলো তখনই গঙ্গার প্রবল করাল ঘূর্ণিপাকে সব লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। রমেশ নিজেকে এবং পাশে তীরে পরে থাকা এক নববধূকে আবিষ্কার করে কলকাতায় গিয়ে সংসার শুরু করলো।
.
নায়কের নবপরিণীতার নাম কমলা। স্বল্পভাষী কমলার দাবি সে সংসারে রমেশের কাছ থেকে কখনো ভালবাসা পায়নি, পেয়েছে স্নেহ। সংসার জগতে ভালবাসা আর স্নেহের পার্থক্য উপন্যাসকে এক রহস্যের দিকে ধাবিত করে।
রমেশের হৃদয়পটে হেমের উপস্থিতি এতটাই গভীর যে কমলার সংসারে মনোযোগী হতে পারছিল না। রমেশ এক সময় বুঝতে পারে কমলা তার বাবার ইচ্ছেতে বিয়ে করা সে গ্রাম্য মেয়েটি না। গঙ্গার সেদিনের উত্তাল ঝড়ে সবাই ভেসে যায়।কমলারও সেদিন এক ডাক্তারের সাথে বিয়ে হয়েছিল।
.
কমলা রমেশের সাতপাকে বাধা স্ত্রী নয় বুঝতে পেরে চাতকের ন্যায় প্রহর কাটানো হেমকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং কমলার কথা গোপন রাখে। এদিকে হেমকে পছন্দ করা তার ভাইয়ের বন্ধু জানতে পারে রমেশ বিবাহিত। এই সংবাদ জানাজানি হয়ে গেলে রমেশ কমলাকে নিয়ে কলকাতা ত্যাগ করে। এমন সংবাদে হেম বাকরুদ্ধ ও অসুস্থ হয়ে পড়ে।
.
কমলা এক বিজ্ঞপ্তি মারফত জানতে পারলো রমেশ তার স্বামী নয়। নিজের জীবন উৎসর্গে গঙ্গায় ঝাঁপ দিলে জেলেরা তাকে উদ্ধার করে এক বাড়িতে দাসী হিসেবে রেখে আসে।
.
হেমনলিনীকে তার ভাই বন্ধুর সাথে বিয়ে দিতে চেষ্টা করলে বাবা হেমের পক্ষাবলম্বন করেন। আসাধারণ সব যুক্তির সমাবেশ রচনা করেছেন রবীন্দ্রনাথ এই অংশে। হেমকে নিয়ে বাবা সফরে বের হলে পরিচয় ঘটে ডাক্তার নলিনাক্ষের সাথে। রমেশের জন্য হেমের প্রাণ অতিসয় বিয়োগগ্রস্ত। এদিকে ডা: নলীনাক্ষ হেমের অশান্ত মনে কিছুটা প্রণয়ের সুর তুলে। হেমের বিষাদ অসুস্থ মনের দায়িত্ব নিতে ডাক্তারবাবুকে হেম সম্মতি দেয়। উপন্যাসের এমত ক্ষণে পাঠক হৃদয়ে ভালোবাসার ভগ্ন চিত্র দৃশ্যত হয়। বিয়ের কথাও পাকাপাকি হয়ে গেল ডাক্তার আর হেমের। কি হবে রমেশের!
.
কি নিয়তি! কমলা আজ দাসী তার নিজ স্বামীর ঘরে। আর এদিকে রমেশ ব্যাকুলে হেমের জন্যে। রমেশ হঠাৎ করেই হেমের গৃহে হাজির হলে হেম সব কিছু ত্যাগ করে ভালবাসাকে নিরবধি চিত্তে সম্মান দেখিয়ে রমেশের পাণিগ্রহণ করে। রমেশ ডাক্তারবাবুকে কমলার পরিচয় দিলে বুঝতে পারে কমলাই ডাক্তারের সেই গঙ্গায় হারিয়ে যাওয়া বউ।
.
এক নৌকা ডুবি মানুষকে সামাজিকভাবে কতটা বৈচিত্রময় করে তুলে তার নিদারুণ কাহিনীই জায়গা করে নিয়েছে রবী ঠাকুরের এই নৌকা ডুবি উপন্যাসে।

বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপাণ্ডব

বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপান্ডব ত্রিশের দশকের বিশিষ্ট ৫ জন কবি রবীন্দ্র প্রভাবের বাইরে গিয়ে বাংলা ভাষায় আধুনিক কবিতা সৃষ্টি করেছিলেন। তাঁদের ৫ জনকে বাংলা সাহিত্যে পঞ্চপান্ডব বলা হয়।
১.জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪)।
২.অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-৮৭)।
৩.বুদ্ধদেব বসু (১৯০৮-৭৪)।
৪.বিষ্ণু দে (১৯০৯-৮২)।
৫.সুধীন্দ্রনাথ দত্ত (১৯০১-৬০)।

Most Popular Post