একজন পুরুষ পরিবারের জন্য এভাবেই সংগ্রাম করে যায়,,,
Ad-1
Saturday, March 21, 2026
Tuesday, February 20, 2024
সুখী হওয়ার উপায়
আমরা ব্যক্তি,পরিবার, বন্ধু ও কর্মক্ষেত্র দ্বারা আক্রান্ত হই।তা থেকে........
★ মুক্তির উপায় :-----
১. শত্রুকে কাজে লাগানো।
২. সময় চূড়ান্তভাবে মেনে চলা।
৩. সঞ্চয় থাকতে হবে।
৪. কাজের মধ্যে কাজ করতে হবে।(Work in work)
★ সুখী হওয়ার উপায় :-----
১. নিজে না করে কাজ করা/কাজ না করে কাজ করা।
২. টেনশন বিক্রি।
৩. Minimum investment maximum profit.
৪. খরচ না করে খরচ বাঁচানো।
৫. ভাগ্যের উপর বিশ্বাস।
৬. পাপ থেকে বিরত থাকা।কথায় আছে,
"পরিশ্রম ধন আনে,পূণ্য আনে সুখ"
৭. আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা।
৮. প্রতিকারের উপায় না থাকলে সহ্য করতে হয়।
Saturday, November 11, 2023
যেমন পাত্র তেমন শিক্ষা দেওয়া উচিত
জঙ্গলের রাজা বাঘ
মশাই ঢাকঢোল পিটিয়ে জানিয়ে দিলো - "কোনো শিশুকে নিরক্ষর রাখা চলবে না।। সবার
জন্য যথাযথ শিক্ষা সুনিশ্চিত করতে হবে।।"
সব ছেলেমেয়েদের
স্কুলে পাঠাতে হবে।। পড়াশুনা শেষ হলে,, সবাইকে সার্টিফিকেট দেওয়া হবে।।
শুরু হলো সর্ব
শিক্ষা অভিযান!!
হাতির বাচ্চা
স্কুলে এলো।। বাঁদর,, মাছ,, কচ্ছপ,, বিড়াল,,উট ,, জিরাফ,, সবার বাচ্চা
স্কুলে পৌঁছে গেলো।।
শুরু হলো ধুমধাম
করে পড়াশোনা।।
"ফার্স্ট
ইউনিট টেষ্ট" হলো।। হাতির বাচ্চা ফেল।।
- "কোন
সাবজেক্টে ফেল ??" হাতি এসে প্রশ্ন করে।।
-- "গাছে
ওঠা" সাবজেক্টে ফেল করেছে।।"
হাতি পড়লো মহা
চিন্তায়।। তার ছেলে ফেল ??
এটা কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না।।
শুরু হলো
খোঁজাখুঁজি,, ভালো টিউটর পেতেই হবে।। সন্তানের শিক্ষার ব্যাপারে কোনো রকম কম্প্রোমাইজ
করা যাবে না।।
হাতির এখন একটাই
টেনশন,, যেভাবেই
হোক,, ছেলেকে গাছে চড়া শেখাতে হবে !! "গাছে ওঠা'
সাবজেক্টে টপার করে তুলতে হবে।।
ফার্স্ট সেশন
অতিক্রান্ত।। ফাইনাল রেজাল্ট আউট হলো।। দেখা গেলো - হাতি,, উট,, জিরাফ,, মাছ,, সবার বাচ্চা
ফেল।। বাঁদরের বাচ্চা টপার হয়ে গেছে।।
প্রকাশ্য মঞ্চে
বিভিন্ন গেষ্টদের আমন্ত্রিত করে,, বিরাট অনুষ্ঠান আয়োজন করা হলো।। সেখানে টপার হিসাবে
বাঁদরের বাচ্চার গলায় মেডেল পরিয়ে দেওয়া হলো।।
চুড়ান্ত অপমানিত
হয়ে হাতি,, উট,, জিরাফ,, নিজ নিজ সন্তানকে
দারুণ পিটুনি দিলো।। এতো টিউশন,, এতো খরচ,, এর পরেও চূড়ান্ত অসম্মান!!
তারা মেনে নিতে
পারলো না।।
-- "ফাঁকিবাজ,,
এতো চেষ্টা করেও তোর দ্বারা গাছে চড়া সম্ভব হলো না ?? নিকম্মা কোথাকার।। শিখে নে, বাঁদরের বাচ্চার কাছে
শিক্ষা নে,, কিভাবে গাছে চড়তে হয়।।"
ফেল কিন্তু মাছের
ছেলেও হয়ে গেছে।। সে আবার প্রত্যেক সাবজেক্টে ফেল,, কেবলমাত্র "সাঁতার" কাটা
ছাড়া।।
প্রিন্সিপাল বললো
-- "আপনার সন্তানের এ্যটেন্ডেন্স প্রবলেম।। পাঁচ মিনিটের বেশী ক্লাসে
থাকতে পারে না।।"
মাছ নিজের সন্তানের
দিকে ক্রোধান্বিত হয়ে তাকিয়ে রইলো।।
বাচ্চা বলে
--" মা-গো,, দম নিতে পারি না,, ভীষণ কষ্ট হয়।। আমার জন্য জলের
মধ্যে কোনো স্কুল দেখলে হতো না ??"
মাছ বলে --
"চুপ কর বেয়াদব।। এতো ভালো স্কুল আর কোথাও খুঁজে পাবি না।। পড়াশোনায় মন দে,, স্কুল নিয়ে তোকে
ভাবতে হবে না।।"
হাতি,, উট,, জিরাফ,, নিজের নিজের ফেলিওর বাচ্চাকে পিটুনি দিতে
দিতে বাড়ি ফিরে চলেছে।। পথিমধ্যে বুড়ো খেঁকশিয়ালের সঙ্গে দেখা।।
শিয়াল বলে --
"কি হয়েছে সেটা তো বলো ??"
হাতি বলে --
"এত বড়ো শরীর নিয়ে,,
গাছে চড়তে পারলো না।। বাঁদরের ছেলে টপার হলো,, মান ইজ্জত কিছুই অবশিষ্ট থাকলো না।।"
শিয়াল অট্টহাসিতে
ফেটে পড়ে।।
শিয়াল বলো --
"তোমাদের গাছে চড়ার কি প্রয়োজন সেটাই তো বুঝতে পারলাম না।। শোনো হাতি,, তুমি নিজের বিশালাকার
শুঁড় উঠিয়ে ধরো,, গাছের সবচেয়ে বড়ো ফলটি পেড়ে ভক্ষণ করো।।
তোমার গাছে ওঠা লাগবে না।।"
-- "উট
ভাই,, তোমার অনেক উঁচু ঘাড় রয়েছে।। ঘাড় বাড়িয়ে দাও,, গাছের সর্বশ্রেষ্ঠ ফল,, পাতা পেড়ে খাও।।"
-- "বোন
মাছ,, তোমার সন্তানকে নদীর স্কুলে ভর্তি করে দাও।। ওকে মনভরে
সাঁতার কাটতে শেখাও।। দেখবে,, একদিন তোমার ছেলে নদী অতিক্রম
করে সমুদ্রে পাড়ি দেবে।। সাত সমুদ্র পার করে,, তোমার নাম
উজ্জ্বল করে দেবো।। ওকে রাজার স্কুলে মোটেও পাঠিও না।। ও মারা যাবে।।"
মনে রাখতে হবে,, *শিক্ষা আপনার
সন্তানের জন্য,, শিক্ষার জন্য আপনার সন্তান নয়*
প্রত্যেক শিশুর মধ্যেই কিছু না
কিছু স্পেশালিটি আছে।
আমাদের দায়িত্ব হলো, সেটা খুঁজে বের করা।
তাকে সঠিক পথ দেখিয়ে দেওয়া। তাহলেই দেখবেন,, সে নিজেই নিজের
গন্তব্য খুঁজে নেবে।
[সংগৃহীত]
Thursday, July 20, 2023
ভার্সিটির এক বড় ভাই আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন,তুমি কি আহমদ ছফা পড় নাই?
আমি বলেছিলাম,না।
উত্তরে তিনি বলেছিলেন,তাহলে কী পড়লে এতদিন ধরে?
আমি সেদিন লজ্জিত হয়েছিলাম।
আরেকদিন ফেসবুকে পেলাম,কেউ লিখেছে হয়ত মনে নাই ততটা,
" যিনি আহমদ ছফাকে পড়েন নাই,তিনি বাংলা এবং বাংলাদেশকেই চিনেন নাই"
তো প্রথমেই পড়া শুরু করলাম "যদ্যপি আমার গুরু" বইটা দিয়েই। সত্যি বলতে,বইয়ের প্রথম থেকে শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত যেন জ্ঞানমূলক তথ্যে ঠাসা। সবকিছু যেন আমাকে ঘোরের মধ্যে নিয়ে যাচ্ছে।এতসব যেন মাথায় ই ধরছে না আমার।
অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়তে থাকলাম আর অভিভূত হতে থাকলাম। রঙিন কলম দিয়ে আঁকানোর অভ্যেস আছে আমার, কিন্তু,সব পৃষ্ঠাতেই যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে লেখা আমি কলমই লাগাতে পারছি না মনে হচ্ছে।
জাতীয় অধ্যাপক স্যার আবদুর রাজ্জাককে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আহমদ ছফা দেশ-বিদেশের অনেক বিশিষ্ট,বিখ্যাত ব্যক্তিদের আলোচনাও করেছেন।
এসব কিছুই যেন আমার কাছে মনে হচ্ছে, নতুন জগতে প্রবেশ করলাম - যেন এটা একটা বিশ্বকোষ।
স্যার আবদুর রাজ্জাক সাহেবের পুরান ঢাকার ভাষা বেশি আকৃষ্ট করেছে এবং তাঁর বিষয়ে বেশি কিছু বলার দক্ষতা আমার নেই।
এক কথায় সাধারণভাবে জীবনযাপন করা অসাধারণ একজন মনীষী। তাঁর তুলনা তিনি নিজেই।
স্যার আবদুর রাজ্জাকের ভাষ্যমতে,,,
১. যখন কোনো নতুন জায়গায় যাইবেন,২ডা বিষয় খেয়াল রাখবেন।ওই জায়গার মানুষ কি খায় আর পড়ালেখা কি করে। কি খায়, কি পড়ে এই ২ডা জিনিস না জানলে একটা জাতির কোনো কিছু জানন যায় না।
২. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩টি প্রধান অবদান হলো- পাকিস্তান আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন আর বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম। কিন্তু, জ্ঞানচর্চার যে আরও একটা বৈশ্বিক মানদন্ড রয়েছে,তাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান বিশেষ কিছু নেই।
৩. বড় লেখক এবং বড় মানুষ এক নয়। বড় লেখকদের মধ্যে বড় মানুষের ছায়া থাকে।বড় মানুষরা আসলেই বড় মানুষ।
৪. বাংলা ভাষাটা বাঁচাইয়া রাখছে চাষাভুষা, মুটেমজুর -এরা কথা কয় দেইখ্যাই ত কবি কবিতা লিখতে পারে।
৫. ইতিহাস শেখ সাহেবরে স্টেটসম্যান অইবার একটা সুযোগ দিছিল। তিনি এইডা কামে লাগাইবার পারলেন না।
৬. মাওলানা আব্দুল কালাম আজাদের সত্য কথা বলার অভ্যাস আছিল খুব কম,অ্যান্ড হি ওয়াজ এ কনজেনিটাল লায়ার।
৭. আইজকার ইন্ডিয়ার এডুকেটেড মানুষেরা যে ভাষায় পরস্পরের লগে কম্যুনিকেট করেন,হেইডা কোনো ইন্ডিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজ না। ব্রিটিশদের চইল্যা যাইবার পঞ্চাশ বছর পরেও যারা একটা লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা তৈয়ার করতে পারে নাই,তারা একলগে থাকব কি কইর্যা আমি তো চিন্তা করবার পারি না।
৮. যার মনে দয়া নাই,তারে উপরে আনা ঠিক নয়।
৯. আর্যরা জন্মান্তরবাদে বিশ্বাস করলে বেদে উল্লেখ থাকত।বেদে এক্কেরে জন্মান্তরবাদের ছিটেফোঁটাও নেই।এইডা তারা পরে ড্রেভিডিয়ানদের কাছ থেইক্যা ইনহেরিট করছে।
১০. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পড়াশোনা অইছিল মুসলমানের টাকায়। মুহসিন ফান্ডের টাকায় তিনি লেখাপড়া করছিলেন। মুসলমানদের বিরুদ্ধে কলম ধইর্যা সেই ঋণ শোধ করছিলেন।
১১. যে জাতি যত সিভিলাইজড তার রান্নাবান্নাও তত বেশি সফিস্টিকেটেড।পশ্চিমারা সভ্য অইছে কয়দিন।এই সেদিনও তারা মাছ মাংস কাঁচা খাইত।
১২. আধুনিক বাংলা ভাষাটা ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পন্ডিতেরা অভিধান দেইখ্যা দেইখ্যা বানাইছে।
১৩. আধুনিক বাংলা - বঙ্গসন্তানের ঠিক মুখের ভাষা না, লেখাপড়া শিইখ্যা লায়েক অইলে তখন ওই ভাষাটা তার মুখে আসে।
১৪. ইসলাম ধর্মের সঙ্গে অন্যান্য ধর্মের একটা বড় পার্থক্য এইখানে যে, ইসলাম ধর্মে পরকালের গুরুত্ব স্বীকার করা অইছে, কিন্তু ইহকালের গুরুত্বও অস্বীকার করা অয় নাই।
১৫. সুরুচিসম্পন্ন সংস্কৃতিবান অধিক মানুষ আমাদের সমাজে সত্যি সত্যি বিরল। এখানে একজন বড় কাজ করলে উৎসাহ দেওয়ার জন্য কেউ এগিয়ে আসে না।
এরকম স্পষ্টভাষী পন্ডিতের সহচর্য পাবার আকাঙ্ক্ষা সবসময়ই রয়ে যায়। আজ থেকে যেন আহমদ ছফা পড়া চলতেই থাকবে..........,
Sunday, November 1, 2020
গদ্য, পদ্য ও কবিতা ময়ুখ চৌধুরী
[কবি ময়ুখ চৌধুরী আশির দশক থেকে সাহিত্যকর্মে নিজস্ব কাব্যস্বরের জন্য সুপরিচিত। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ১০টি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে চার দশক অধ্যাপনার পর বর্তমানে অবসরে আছেন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে চবি শিক্ষক লাউঞ্জে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষক জনাব মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক ও জনাব নাজেমুল আলম মুরাদ-এর সাথে তিনি গদ্য, পদ্য ও কবিতা নিয়ে খোলামেলা কিছু কথাবার্তা বলেন। এটি সেই আলাপচারিতার পরিমার্জিত অনুলিখন।]
Friday, October 30, 2020
we_love_mohammad_ﷺ_challenge
আমি যখন পিএইচডির শেষ পর্যায়ে, তখন আমার কাছে খ্রিস্টান পাদ্রীরা আসতে শুরু করলো। তারা মনে করলো একজন বিধর্মীকে তাদের ধর্মে নিয়ে যেতে পারলে তাদের জন্য সুবিধা। আমি দেখলাম, ওরা প্রচুর পড়াশোনা করে, জানে। ওদের ধর্ম বিষয়টা যেমন প্রচুর জানে, আমাদের ধর্ম নিয়ে তেমনি। আমি আমাদের প্রফেটকে হাইলাইট করার জন্য এক পাদ্রীকে বললাম যে, শোনো, আমাদের প্রফেট ছিলেন এমনই একজন মানুষ, তিনি যখন কারো সাথে কথা বলতেন, তার দিকে ঘাড় ফিরিয়ে কথা বলতেন না, তিনি পুরো বডিটা তার দিকে টার্ন করতেন, যাতে সে মনে করে তাকে ফুল অ্যাটেনশন দেয়া হচ্ছে।
শুনে পাদ্রী বললেন, দেখুন, 'স্পন্ডিলাইটিস' বলে একটা ডিজিজ আছে, যে ডিজিজে ঘাড়ের চামড়া শক্ত হয়ে যায়, আপনাদের প্রফেটের ছিল সেই ডিজিজ। উনি ঘাড় ফেরাতে পারতেন না বলে পুরো শরীর অন্যের দিকে ফেরাতেন। তাহলে তোমরা একটা ডিজিজকে হাইলাইটস করছো কোন দুঃখে?
হঠাৎ করে আমার এমনই মন খারাপ হলো যে ভাবলাম, আসলেই তো, একটা ডিজিজের জন্য তিনি এটা করতেন বলে আমরা মানছি। তখন গড আমাকে হেল্প করলো। তিনি সঙ্গে সঙ্গে আমাকে একটা লজিক দিয়ে দিলেন এবং লজিকটা আমার তাৎক্ষানিক আসা। পাদ্রী তখনো বসা ওখানে, চা খাওয়া শেষ করেননি, আমি বললাম, আপনার কথাটা ভুল। আমাদের নামাজ পড়ার একটা সিস্টেম আছে, সিস্টেমে মাথা ফেরাতে হয়। আমাদের প্রফেটের যদি 'স্পন্ডিলাইটিস' ডিজিজ থাকতো, তাহলে উনি পুরো শরীর ফেরাতেন, উনি তো তা করেন না। তার এই ডিজিজ ছিলো না, তিনি যেটা করতেন রমতা শ্রদ্ধার জায়গা থেকে করতেন। তারপর আমি তাকে বললাম, আমি কিন্তু ঈশা ( আ.) সম্পর্কে এজাতীয় কথা বলিনি। তিনি আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন এবং বললেন, তোমার লজিক খুব পরিষ্কার, আসলেই তো তোমরা নামাজের সময় দুইদিকে মাথা ফেরাও।
~হুমায়ূন আহমেদ
তথ্যসূত্রঃ [ শিলালিপি (দৈনিক কালের কন্ঠ), ২৭ জুলাই ২০১২ ]
হুমায়ূন আহমেদ স্মারকগ্রন্থ- হুমায়ূন আহমেদের ধর্মচেতনা ( মোহাম্মদ হান্নান)
Wednesday, May 6, 2020
জ্ঞানের অভিজাত স্থান স্পেনের আন্দালুস
জ্ঞান চর্চায় আধুনিক সভ্যতার ভিত তৈরিতে আন্দালুস ছিল ইতিহাস শ্রেষ্ঠ ।
৪১৯ হিজরি। ১০২৮ খ্রিষ্টাব্দ। আন্দালুসের মসনদে সমাসীন খলিফাতুল মুসলিমিন হিশাম আল-মুআয়্যিদ (তৃতীয় হিশাম)। ইংল্যান্ডের সম্রাট দ্বিতীয় জর্জ এর পক্ষ থেকে খলিফার কাছে একটি পত্র এল। পত্রে ইংল্যান্ড সম্রাট খলিফা হিশামের কাছে অনুমতি চাচ্ছেন--ইংল্যান্ড থেকে আন্দালুসে একটি প্রতিনিধিদল প্রেরণ করবেন। এ দল আন্দালুসের জ্ঞানবিজ্ঞান, সভ্যতা, সংস্কৃতি ও উন্নতিকল্প সম্পর্কে জানবে, অবগত হবে। পরে উপকৃত হয়ে ইংল্যান্ড ফিরে যাবে। খলিফা হিশাম সম্মতি প্রদান করলেন।
ইংল্যান্ড থেকে ২১৫জন ছাত্র-ছাত্রীর একটি প্রতিনিধিদল আগমন করল আন্দালুসে। তৎকালীন সময়ে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সভ্যতার স্বর্গরাজ্যে। তারা গোটা আন্দালুসে ছড়িয়ে পড়ল। আহরণ করতে লাগল মুসলিমদের কাছে জ্ঞানের মধু। বর্ণনায় পাওয়া যায়, ওই প্রতিনিধিদলের আটজন ব্যক্তি ইসলামের সুমহান আদর্শ এবং জ্ঞানশিল্পে আকৃষ্ট হয়ে ইসলামগ্রহণ করে ফেলেন। আন্দালুসের মাটি ও মানুষকে তারা এতোই ভালোবেসে ফেলেন যে, তারা আর ইংল্যান্ডে ফিরে যেতে চাননি!
আশ্চর্যজনক কথা হলো, প্রতিনিধিদলের ইসলামগ্রহণকারী ওই আটজনের মধ্যে তিনজন ছিলেন যুবতী। তাদের প্রত্যেকেই আন্দালুসের নামকরা তিনজন আলিমকে বিয়ে করেছিলেন। এভাবেই তারা জ্ঞানের আলোয় আলোকিত তিনটি সংসার গড়েছিলেন!
ইউরোপের অপরাপর সম্রাটরাও নিজ নিজ প্রতিনিধিদল প্রেরণ করতে লাগলেন। যার যার দেশের ভবিষ্যৎপ্রজন্মকে, জ্ঞানের তীর্থস্থান থেকে জ্ঞানীগুণী করে গড়ে তুলতে। সেই ধারাবাহিতায় সম্রাট উইলস তার ভাতিজির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রেরণ করলেন। এই প্রতিনিধিদলে ছিল বিভিন্ন সম্ভ্রান্ত পরিবারের ১৮জন যুবতী। তারা একটি চিঠি বহন করে আন্দালুসের মাটিতে পদার্পণ করেছিল। চিঠিটি হলো এই--
"আমরা শুনেছি সেই জ্ঞান-বিজ্ঞান ও উন্নত সভ্যতার কথা, যা দ্বারা আপনাদের এই মহান দেশের বিদ্যাপীঠ ও শিল্পকারখানাগুলো সর্বদা উপকৃত হয়ে চলছে। সুতরাং আমরা আমাদের সন্তানদেরকে এসব জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্পের আলো আহরণ করানোর ইচ্ছা করেছি। যাতে করে আপনাদের পদাঙ্ক অন্যসরণ করে এটা একটা সুন্দর উদ্যোগ হতে পারে আমাদের এমন দেশে, যে দেশে চারিদিক থেকে মূর্খতার অন্ধকার ছেয়ে নিয়েছে!"
আজ স্পেন আছে, কিন্তু আমাদের সেই আন্দালুস নেই! নেই আমাদের জ্ঞান-বিজ্ঞানের স্বর্গরাজ্য! পশ্চিমারা আমাদের জ্ঞান-বিজ্ঞান কুড়িয়ে নিয়ে আজ তারাই বিজ্ঞানী! তারাই সভ্য! আর আমরা...! আমরা তাদের উচ্ছিষ্টভোজী! জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প ও সভ্যতা শিখতে আজ আমরাই তাদের দেশে পাড়ি জমাই! আহ, আন্দালুস! আমাদের হারানো ফিরদাউস !
------
সূত্র: 📚الأندلس بوابة التواصل الحضاري العربي الإسلامي ـ الأوروبي: ড. নাহলাহ শিহাব আহমাদ, মসুল বিশ্ববিদ্যালয়, ইরাক। গবেষণালব্ধ থিসিস।
Sunday, February 23, 2020
কলম্বাস যদি বিবাহিত হতেন
তিনি কখনওই আমেরিকা আবিষ্কার করতে পারতেন না। কারণ
তাকে আগে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে হতোঃ
১. তুমি কোথায় যাচ্ছ?
২. কার সাথে যাচ্ছ?
৩. কেন যাচ্ছ?
৪. কিভাবে যাচ্ছ?
৫. কী আবিষ্কার করতে যাচ্ছ?
৬. এত লোক থাকতে তোমাকে কেন যেতে হবে?
৭. তুমি যখন এখানে থাকবে না, আমি কিভাবে থাকব?
৮. আমি কি তোমার সাথে যেতে পারি?
৯. তুমি ফিরবে কখন তাই বলো।
১০. রাতে বাসায় ফিরে খাবে তো?
১১. আমার জন্য কী আনবে বলো?
১২. তুমি আমাকে ছাড়া একা একা নিশ্চয় কোন উদ্দেশ্য নিয়ে এই পরিকল্পনা করেছ।
১৩. পরবর্তীতে তুমি এরকম প্রোগ্রাম আরো করতে যাচ্ছ…
১৪. উত্তর দাও, কেন?
১৫. আমি আমার বাপের বাড়ি চললাম।
১৬. তুমি আমাকে আগে সেখানে পৌঁছে দাও।
১৭. আমি আর কোন দিন ফিরে আসব না।
১৮. আচ্ছা? আচ্ছা বলতে তুমি কী বুঝাতে চাচ্ছ?
১৯. তুমি আমাকে ঠেকাচ্ছও না… কেন?
২০. আমি বুঝতে পারছি না, এই আবিষ্কারটা আসলে কিসের আবিষ্কার।
২১. তুমি সব সময় এরকম কর।
২২. গতবারও তুমি একই কাজ করেছিলে।
২৩. এখন থেকে তুমি এ ধরনের ছন্নছাড়া কাজ করতেই থাকবে।
২৪. আমি এখনও বুঝতে পারছি না, এখনও এমন কি আছে যে, আবিষ্কার করা হয়নি।
শিক্ষাঃ নিজের জীবনে কোন বড়
আবিষ্কার করার সম্ভাবনা থাকলে বিবাহ পরিত্যাগ করুন
collected
Saturday, January 4, 2020
“টমাস আলভা এডিসন"
"মা, প্রিন্সিপাল আমাকে আদর করে কিছু ক্যান্ডি দিয়েছে। আর,তােমার জন্য এই চিঠিটা।"
মা চিঠিখানা খুলে পড়ে কেঁদে ফেললেন।
মায়ের চোখে জল দেখে ছেলেটি বলল, "মা,
কাঁদছ কেনাে?"
চোখ মুছতে মুছতে মা বললেন, 'বাবা, এটা আনন্দের কান্না!"বলেই ছেলেটিকে চুমু দিয়ে বললেন, "আমার জিনিয়াস বাবা, তােকে চিঠিটা পড়ে শােনাই।"
মা আনন্দের সাথে চিৎকার করে স্যারের লেখার ভাষা বদলে নিজের মত করে পড়তে লাগলেন, "ম্যাম,
আপনার ছেলেটি সাংঘাতিক জিনিয়াস।আমাদের ছােট্ট শহরে ওকে শিক্ষা দেওয়ার মত শিক্ষক আমাদের নেই।তাই, যদি পারেন আপনার ছেলেকে বড় শহরে কোনাে স্কুলে ভর্তি করে দিলে ভালাে হয়। এই ছেলেটি একদিন বিশ্বে প্রচুর সুনাম অর্জন করবে।"
পত্রখানা পড়েই মা, ছেলেটিকে চুমু দিয়ে বললেন, "এই জিনিয়াস ছেলেটিকে আমি নিজেই পড়াব।"
মা নিজেই শিক্ষা দিয়ে ছেলেটিকে যুক্তরাষ্ট্রের তথা সমগ্র পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক বানালেন।
"টমাস আলভা এডিসন"
বৈদ্যুতিক বাল্ব, শব্দ রেকর্ডিং, মুভি ক্যামেরা বা চলমান ছবি ইত্যাদি সহ হাজারাে আবিষ্কার তাঁর।
মায়ের মৃত্যুর পর টমাস এডিসন একদিন সেই ছােট্ট গ্রামে মায়ের সেই ছােট্ট বাড়ীতে গিয়ে ঘর পরিষ্কারের সময় স্কুলের প্রিন্সিপ্যালের দেয়া চিঠিটা পেল। চিঠিখানা পড়ে টমাস কেঁদে দিল।
তাতে লেখা ছিল,
"ম্যাডাম,আপনার ছেলে টমাস এডিসন একজন মেন্টালি রিটার্ডেড।সে এতটাই নির্বোধ যে, তাকে শিক্ষা দেওয়ার মত ক্ষমতা আমাদের নেই।
কার'ও আছে বলেও আমাদের জানা নেই। আপনার ছেলের কারণে আমাদের স্কলটির সুনাম ক্ষুন্ন হবে।তাই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আপনার ছেলেকে স্কুল থেকে ঙংস্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হল।"
শিক্ষনীয়ঃ-
সন্তানের সাথে সর্বদাই পজিটিভ আচরন করবেন। বাসস্থান হল সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং মা হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক।
(Collected)
Friday, November 8, 2019
যারা মূল্যায়ন করবে তাদের কাছে যাবে
ছেলেটা বললো, 'কি কাজ?'
- 'এই ঘড়িটা নিয়ে রাস্তার পাশের ঘড়ির দোকানে যাবে। তাদের বলবে যে এই ঘড়ি তুমি বিক্রি করতে চাও'।
ছেলেটা তা-ই করলো। ঘড়িটা রাস্তার পাশের একটা ঘড়ির দোকানে বিক্রি করতে নিয়ে গেলো। সে ফিরে এলে তার বাবা বললো, 'ঘড়ির দোকানদার কতো টাকা দিতে চাইলো ঘড়িটার বিনিময়ে?'
ছেলেটা বললো, 'একশো টাকা মাত্র। ঘড়িটা নাকি অনেক পুরাতন, তাই'।
বাবা বললেন, 'এবার পাশের কফি শপে যাও। তাদেরকে বলো যে তুমি এই ঘড়ি বিক্রি করতে চাও'।
ছেলেটা তা-ই করলো। ঘড়িটা নিয়ে পাশের এক কফি শপে গেলো৷ ফিরে এলে তার বাবা জানতে চাইলো, 'কি বললো ওরা?'
- 'ওরা তো এটা নিতেই চাইলো না। বললো, এতো পুরোনো, নোংরা ঘড়ি দিয়ে আমাদের কি হবে?'
বাবা হাসলেন। বললেন, 'এবার তুমি এই ঘড়ি নিয়ে জাদুঘরে যাও। তাদের বলো যে এই ঘড়িটা আজ থেকে দুই'শতো বছর আগের'।
ছেলেটা এবারও তা-ই করলো। সে ঘড়িটা নিয়ে জাদুঘরে গেলো। ফিরে এলে তার বাবা বললো, 'কি বললো ওরা?'
- 'ওরা তো ঘড়িটা দেখে চমকে উঠেছে প্রায়! তারা এই ঘড়ির দাম বাবদ এক লক্ষ টাকা দিতে চাইলো আমাকে'।
ছেলের কথা শুনে বাবা হাসলেন। বললেন, 'আমার সন্তান! আমি তোমাকে এটাই শিখাতে চাচ্ছিলাম যে, যারা তোমার মূল্য বুঝবে তারা ঠিকই তোমাকে জীবনে মূল্যায়ন করবে। আর যারা তোমার মূল্য বুঝবে না, তারা কোনোদিনও তোমাকে মূল্যায়ন করবে না।
তাই, যারা তোমাকে মূল্যায়ন করবে না, তাদের আচরণে কিংবা কথায় কখনো হতাশ হয়ে পড়ো না। এমনকি জোর করে তাদের নিজের মূল্য বুঝাতে যেও না। কেননা তারা তোমার মূল্য বুঝতে অক্ষম।
তুমি তাদের কাছেই যাবে, যারা তোমার সত্যিকার মূল্য বুঝবে, সম্মান করবে, ভালোবাসবে !
#সংগৃহীত
Recent Post
Most Popular Post
-
ভূমিকা : ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যাঁর নামটি জড়িত, তিনি হলেন সৈয়দ মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর। জন্ম পরিচয় : তিতুমীর ভারতের পশ্চিমবঙ...
-
অলঙ্কার এর সংজ্ঞাঃ অলঙ্কার কথাটি এসেছে সংস্কৃত 'অলম' শব্দ থেকে।অলম শব্দের অর্থ ভূষণ।ভূষণ অর্থ সজ্জা,গহনা ইত্যাদি। তাই আভিধানিক অর্থে...
-
নৌকাডুবি (১৯০৬) চরিত্র ও তথ্য সমূহ ১. রমেশঃকলকাতা/Law/বাবার চিঠি/ ২. হেমনলিনীঃমাতৃহীন/ ৩. কমলাঃ ৪. ডাক্তার নলিনাক্ষঃ * গঙ্গার প্রবল ঘুর্ণিঝড়...
-
জটিল বা মিশ্র বাক্যে ছােট ছােট একাধিক বাক্য থাকে একে খণ্ডবাক্য বলে। খণ্ডবাক্য প্রধানত দুই প্রকার- ১.প্রধান খণ্ডবাক্য ২.আশ্রিত খণ্ড বাক্য। ...
-
গীতিকার ও সুরকার : আব্দুর রাহমান বয়াতি দে দে পাল তুলে দে মাঝি হেলা করিস না ছেড়ে দে নৌকা অামি যাবো মদিনা দুনিয়ায় নবী এলো মা অামিনার ঘ...
-
বলাকা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সন্ধ্যারাগে ঝিলিমিলি ঝিলমের স্রোতখানি বাঁকা আঁধারে মলিন হল–যেন খাপে-ঢাকা বাঁকা তলোয়ার; দিনের ভাঁটার শেষে রাত...
-
কালিদাস রায় > তথ্য কণিকা ১. খানুয়ার প্রান্তরে নিহত হয় — সংগ্রাম সিং। ২. রণবীর চৌহানের সততা দেখে মুগ্ধ হন - বাবুর। ৩. বাবুর ছদ্মবেশ ধার...

