Ad-1
Friday, August 23, 2019
বিষয়: বাংলা
{বাংলায় আগে ৫টি/৩টি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের লেখকের নামসহ গ্রন্থের নাম লিখতে বলতে, এখন ৩নম্বরের জন্য বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর সর্ট কাহিনী লিখতে হতে পারে}
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসঃ
.
১.রাইফেল রোটি আওরাত- আনোয়ার পাশা।
২.জাহান্নাম হইতে বিধায়- শওকত ওসমান।
৩.ওংকার- আহমদ ছফা।
৪.হাঙ্গর নদী গ্রেনেড- সেলিনা হোসেন।
৫.খাঁচায়- রশীদ হায়দার।
.
কবিতাঃ
১.মুক্তিযোদ্ধা- জসীমউদদীন।
২.দগ্ধগ্রাম- জসীমউদদীন।
৩.বন্দী শিবির থেকে- শামসুর রহমান।
৪.পুত্রদের প্রতি- আবুল হোসেন।
৫ প্রথম শহীদ বাংলাদেশের মেয়ে- সুফিয়া কামাল।
.
নাটকঃ
১.পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় - সৈয়দ শামসুল হক
২.বকুলপুরের স্বাধীনতা- মমতাজ
উদদীন আহমদ।
৩.নরকে লাল গোলাপ- আলাউদদীন আল আজাদ।
৪.আয়নায় বন্ধুর মুখ- আবদুল্লাহ আল মামুন।
৫.যে অরন্যে আলো নেই-নীলিমা ইব্রাহিম।
-
স্বাধীনতাপূর্ব ও পরোক্ষভাবে স্বাধীনতার ইঙ্গিতবাহী উপন্যাসঃ
১.ক্রতিদাসের হাসি (১৯৬২) - শওকত ওসমান।
২.কিষাণ (১৯৬৯) -ইন্দু সাহা।
৩.রাঙ্গা প্রভাত (১৯৫৭) -আবুল ফজল।
৪.নীড় সন্ধানী (১৯৬৮) - আনোয়ার পাশা।
৫.বিদ্রোহী কৈবর্ত (১৯৬৯) - সত্যেন সেন।
.
চলচ্চিত্রঃ
১.ওরা ১১ জন- চাষী নজরুল ইসলাম।
২.গেরিলা-নাসির উদ্দীন ইউসুফ।
৩.লাল সবুজ- শহীদুল ইসলাম।
৪.আমার দেশের মাটি- অনন্ত হীরা।
৫.প্রত্যাবর্তন- মোস্তফা কামাল।
-
প্রামান্য চিত্রঃ
১.দুঃসময়ের বন্ধু- শাহরিয়ার কবির।
২.১৯৭১- তানভীর মোকাম্মেল।
৩.স্টপ জেনোসাইড- জহির রায়হান।
৪.মুক্তির গান- তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ।
৫.লিবারেল ফাইটার্স- আলমগীর কবির।
.
ছোটগল্পঃ
১.একাত্তরের যীশু-শাহরিয়ার কবির।
২.জন্ম যদি তব বঙ্গে- শওকত ওসমান।
৩.নামহীন গোত্রহীন-হাসান আজিজুল হক।
৪.মিলির হাতে স্টেনগান-আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।
৫.বীরাঙ্গনার প্রেম-বিপ্রদাস বড়ুয়া।
.
স্মৃতিকথাঃ
১.আমি বিজয় দেখেছি-এম আর আখতার মুকুল।
২.একাত্তরের দিনগুলি-জাহানারা ইমাম।
৩,একাত্তরের ডায়েরী-সুফিয়া কামাল।
.
প্রবন্ধঃ
১.A search for identity-মেজর মো.আবদুল জলিল
২.The liberation of Bangladesh -মেজর.জেনারেল সুখওয়ান্ত সিং।
৩.একাত্তরে ঢাকা-সেলিনা হোসেন।
৪.আমি বীরাঙ্গনা বলছি-ড.নীলিমা ইব্রাহিম।
-
বিদেশী ভাষার বইঃ
১.The rape of Bangladesh- অ্যান্থনি মাসকারেনহাস।
২.Legacy of Blood -অ্যান্থনি মাসকারেনহাস।
৩.The testimony of sixty;Oxfam
৪.A search for identity;
৫.The liberation of Bangladesh;
.
স্থাপত্যঃ
১.জাতীয় স্মৃতিসৌধ-সাভার.সৈয়দ মইনুল হোসেন।
২,বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ-মিরপুর.মোস্তফা হারুন কুদ্দুস হিলি।
৩.স্বোপার্জিত স্বাধীনতা-ঢাবি.
শামীম শিকদার;
৪.সংশপ্তক- জাবি.
৫.অপরাজেয় বাংলা-ঢাবি.সৈয়দ আবদুল্লাহ খালেদ।
.
গানঃ
১.মোরা একটি ফুলকে বাচাব- গোবিন্দ হালদার।
২. জন্ম আমার ধন্য হল- নাঈম গহর।
৩.জনতার সংগ্রাম চলবেই- সিকান্দার আবু জাফর।
৪.শুনো একটি মুজিবুরের- গৌরিপ্রসন্ন মজুমদার।
৫.নোঙ্গর তোলো তোলো-নাঈম গহর
/
সম্পাদিত
[কৃতজ্ঞতা স্বীকার fb page; zakir's bcs special ]
ভাইভা বোর্ডের শিষ্টাচারিতা
(অন্যান্য সরকারী চাকরীর ভাইভার জন্যও প্রয়োজ্য)
© রবিউল আলম লুইপা
দৈনিক কালের কন্ঠ
০৭ আগষ্ট, ২০১৯
ভাইভা বোর্ডে..
১. ভাইভা বোর্ডে ঢোকার আগে এক গ্লাস পানি খেয়ে জোরে নিঃশ্বাস নেবেন, এতে নার্ভাসনেস অনেকটাই কেটে যাবে।
২. অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করবেন, নিকটতম দূরত্বে গিয়ে সালাম বা আদাব দেবেন।
৩. বসতে না বললে বসবেন না। অনেকক্ষণ হয়ে গেলে বা না বসতে বলেই ভাইভা শুরু করলে ‘আমি কি বসতে পারি স্যার’ বলে অনুমতি নিয়ে নেবেন, এরপর অবশ্যই ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন।
৪. চেয়ারে হাতল থাকলে (সাধারণত থাকে না) হাতলে হাত রাখবেন না, পা নাচানো বা হাতের মুদ্রাদোষ থাকলেও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করবেন। সবচেয়ে ভালো হয় দুই হাতের আঙুলগুলো ক্রস করে, ঊরুর ওপর হাত রাখা।
৫. বাংলায় প্রশ্ন করলে ইংরেজিতে উত্তর দেওয়া আপনার অতিরিক্ত পরিপক্বতা, আবার ইংরেজিতে প্রশ্ন করলে বাংলায় উত্তর দেওয়া আপনার অদক্ষতা। তাই যে মিডিয়ামে প্রশ্ন করা হবে, সে মিডিয়ামেই উত্তর দিন।
৬. ভাইভা বোর্ডে আরগুমেন্ট করবেন না। ভাইভা বোর্ড ‘সর্বজান্তা’ চায় না, চায় ‘বিনয়ী মার্জিত’ অফিসার। কোনো প্রশ্নের উত্তর ‘আপনারটা সঠিক, বোর্ডেরটা ভুল’ হলেও প্রমাণ করতে যাবেন না। বিনীতভাবে বলবেন, ‘আমি এমনটাই জানি, স্যার। তবে আমার জানায় ভুল হতে পারে।’
৭. ভাইভা বোর্ডে একজনের উত্তর দেওয়ার সময় বোর্ডের অন্য কেউ প্রশ্ন করলে ‘আমি কি স্যারের উত্তর শেষ করে আপনার উত্তর দিতে পারি?’ বলে অনুমতি নিয়ে নেবেন।
৮. ভাইভা বোর্ডে রাজনৈতিক বা অন্য মতাদর্শকেন্দ্রিক প্রশ্ন হলে টেকনিক্যালি উত্তর দেবেন, যেন উত্তরটা এমনভাবে ধোঁয়াশা থাকে, যেন এটির মিনিং যেকোনো মতাদর্শকেন্দ্রিক হয়। বোর্ডকে খুশি করতে নিজেকে সরকারদলীয় বোঝাতে গেলে হিতে বিপরীতও হতে পারে।
৯. ভাইভায় আই কন্টাক্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বোর্ড মেম্বার প্রশ্ন করার সময় মনোযোগী শ্রোতার মতো শোনার চেষ্টা করুন। উত্তর দেওয়ার সময়ও আই কন্টাক্ট লক্ষ করবেন। গম্ভীর না থেকে হাসিমুখে থাকুন।
১০. ভাইভা বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখবেন। যেমন—প্রবেশের সময় ‘মে আই কাম ইন প্লিজ’ বললে বোর্ড ইংরেজি মিডিয়ামে প্রশ্ন করতে উত্সাহিত হয়। তাই বাংলা মিডিয়ামে ভাইভা দেওয়ার ইচ্ছা থাকলে ‘ভেতরে আসতে পারি স্যার’ বলে ভাইভা মিডিয়াম নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন (সাধারণ অর্থে, এর ব্যতিক্রমও হতে পারে)। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় তীক্ষ�ভাবে উত্তরের শব্দগুলো নির্বাচন করবেন। কারণ এর উত্তর থেকেই পরের প্রশ্ন হতে পারে। সিটি ব্যাংকের ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি ভাইভায় আমাকে বলেছিল, Say about Sundarbans। আমি ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট বলায়ই পরের প্রশ্ন ছিল, ‘ডিফাইন ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট’। আপনি যে টপিকগুলো ভালো পারেন বোর্ডকে টেকনিক্যালি সেদিকে ধাবিত করতে উত্তরে প্রাসঙ্গিক হলে আপনার জানা টপিকের ওয়ার্ডগুলো ঢুকিয়ে দিন। ওই ওয়ার্ডকে ধরেই পরের প্রশ্ন হতে পারে।
১১. চলে আসার সময় অবশ্যই ধন্যবাদ দিয়ে আসবেন। চেয়ার থেকে উঠে দুই-তিন স্টেপ পিছিয়ে টার্ন নেবেন। পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবেন না। বের হওয়ার সময় দরজা ঠাস করে বন্ধ করবেন না, ওই সময়েই কিন্তু আপনার মার্ক লেখা হচ্ছে।
১২. আপনি প্রিলি রিটেন উত্তীর্ণ হয়েই ভাইভা বোর্ডে এসেছেন, তাই নতুন করে আপনার মেধা যাচাইয়ের আবশ্যকতা নেই বোর্ডের কাছে। আপনার ভেতর অফিসারসুলভ আচরণ আছে কি না, আপনাকে ঘষেমেজে অফিসার বানানো যাবে কি না, এটাই ভাইভা বোর্ড লক্ষ করবে। সব প্রশ্নের উত্তর আপনার জানা থাকার কথা নয়, আপনি একটা প্রশ্নের উত্তর না পারলে, এটা যে পারেন না, এ কথাটা যত সুন্দরভাবে গুছিয়ে বলতে পারেন, এটাই আপনার দক্ষতা।
১৩. ওপরের কোনো কৌশলের কোনো কিছুই হয়তো ভাইভা বোর্ডের মনে থাকবে না। এটা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। ভাইভা বোর্ডে জাস্ট উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগানোর চেষ্টা করুন। ভাইভা বোর্ডে একেবারে নার্ভাস হবেন না। নার্ভাস হলেই যে পাস করবেন, নার্ভাস না থেকে খোশ মেজাজে থাকলে আপনার জব হবে না, এমনটা তো নয়। সব প্রশ্নের উত্তর পারলেই ক্যাডার হবেন, না পারলে হবেন না, এটিও নয়।
ড্রেস কোড..
আপনাকে যে ড্রেস পরলে ফরমাল বা মার্জিত লাগে সেটাই পরবেন।
♦ ছেলেদের জন্য..
১. ছেলেরা যেকোনো ফুলহাতা শার্ট পরতে পারেন হালকা রঙের, তবে সাদা হলে ভালো হয়। শার্টের নিচে ঘাম প্রতিরোধ ও গায়ের শেইপ যেন না দেখা যায় সে জন্য হাফ বা ফুলহাতা গেঞ্জি পরে নিতে পারেন।
২. প্যান্ট গাঢ় যেকোনো রং হতে পারে, তবে কালো রং ভালো হবে। বেল্ট কালো নরমাল হতে হবে, লেদার হলে ভালো, বেল্টে বকলেস না হয়ে আগের সময়ের ওল্ড স্টাইলের কাটা থাকলে ভালো।
৩. মোজা অবশ্যই কালো এবং লং হতে হবে, ভুলেও প্রাইভেট জব স্টাইলের শর্ট শকস পরবেন না। ভালো ব্র্যান্ডের হলে দুর্গন্ধ হওয়ার কোনো ঝামেলা পোহাতে হবে না। মোজা ব্যবহারের আগে তাতে কিছু ট্যালকম পাউডার দিয়ে নেবেন ঘাম ও দুর্গন্ধ প্রতিরোধের জন্য।
৪. কালো রঙের শু পরবেন, বাটার ফিতা শু, যেটা পিএটিসিতে ট্রেনিংয়ের সময় দেওয়া হয় (অক্সফোর্ড শু), সেটা হলে ভালো হয়। শুর সোল রাবারের হওয়া বাঞ্ছনীয়, তাহলে ঠক ঠক শব্দ হবে না।
৫. টাই পরার বাধ্যবাধকতা নেই। পরলে সাদা শার্টের সঙ্গে মেরুন অথবা নেভি ব্লু টাই পরবেন। সরকারি অফিশিয়াল রুলস অনুযায়ী অক্টোবর থেকে মার্চ শীতকালীন ধরে স্যুট ব্যবহার করতে বলা হয়, অন্য সময় বাদ। তবে যাঁদের স্যুট পরলে একটা গর্জিয়াস লুক আসে, তাঁরা অন্য সময়ও স্যুট পরতে পারেন।
৬. ভাইভায় মার্জিত দেখে হাতঘড়ি পরা উচিত। যেহেতু পিএসসিতে প্রবেশের সময় মোবাইল জমা রাখা হয়, হাতঘড়ি আপনার সময় সম্পর্কে ধারণা দেবে। সবচেয়ে বড় কথা হাতঘড়ি অফিসারসুলভ লুক এনে দেয় এবং এতে বোর্ড আপনাকে সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে আপনাকে বিব্রত হতে হবে না।
৭. ভাইভা দেওয়ার দুই সপ্তাহ আগে চুল কাটাবেন, যেন ভাইভায় আসতে আসতে চুল মাঝারি শেইপে আসে। ভাইভার আগের রাতে শেইভ করবেন, ভুলেও ভাইভার দিন সকালে করবেন না, দেখতে বাজে লাগবে।
♦ মেয়েদের জন্য..
১. হালকা রঙের সুতি শাড়ি পরবেন, কলার ব্লাউজ এবং হাতা কোয়ার্টার বা লং হতে হবে।
২. হালকা প্রসাধন থাকতে পারে। অলংকার থাকলে একেবারে নরমাল।
৩. স্যান্ডেল অবশ্যই পাতলা স্লিপার হতে হবে। হাঁটার সময় যেন শব্দ না হয় সেটা খেয়াল রাখবেন অবশ্যই।
Thursday, August 22, 2019
বাংলা গদ্যে বিদ্যাসাগরের অবদান
পুণ্যশ্লোক মহাপুরুষ বিদ্যাসাগর গত শতাব্দীর একটি প্রচন্ড বিস্ময়রুপে আমাদের মাঝে
প্রতিভাত হয়েছেন। তার বিচিত্র জীবন কথা, অসাধারণ মেধা,তীক্ষ্ম বিচারবুদ্ধি এই
সমস্ত আজ প্রবাদ বাক্যে পরিণত হয়েছে।
শিক্ষা, বিশেষত শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং স্ত্রী শিক্ষা প্রসারে তার দান শ্রদ্ধার
সঙ্গে স্মরণীয়। বিধবা বিবাহ প্রচার, বহু বিবাহ নিরোধ প্রভৃতি ব্যাপারে তিনি যে
বীর্যবান পৌরুষ ও হৃদয়বান ব্যক্তিত্বের পরিচয় দিয়েছেন গোটা বাংলাদেশে তার
সমতুল্য কোন দ্বিতীয় দৃষ্টান্ত চোখে পড়ে না।
প্রেমের সঙ্গে বীর্য, আবেগের সঙ্গে পৌরুষ, জ্ঞানের সঙ্গে কর্ম---এর আশ্চর্য মিলন
তার মধ্যে সার্থক হয়েছে।
বাংলা গদ্যের জনক নিয়ে প্রায় সুধীমহলে খর তর্কের ঝড় তুফান উঠে থাকে।
কেউ বলেন, রামমোহন বাংলা গদ্যের জনক।
কারো মতে, সে গৌরব বিদ্যাসাগরের প্রাপ্য।
কেউ বা বলেন, ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের অধ্যাপকেরা সেই গৌরব দাবি করতে পারেন, কারণ
তারাই সর্বপ্রথম গদ্য গল্প কাহিনী ও ইতিহাস রচনা করেন এবং সেগুলি হচ্ছে প্রথম
মুদ্রিত গদ্য সাহিত্য।
কিন্তু ভালো করে ভেবে দেখলে দেখা যাবে, উনিশ শতকের বহুপূর্বে বাংলা গদ্যের জন্ম
হয়েছিল, চিঠিপত্রাদিতে বাংলা গদ্যের ব্যবহার সুদূর ষোড়শ শতাব্দীতে পাওয়া যাবে।
সুতরাং উল্লেখিত কেউই বাংলা গদ্যের জনকত্ব দাবি করতে পারে না, তাদের পোস্টা(
প্রতিপালক) বলা যেতে পারে। তবে এরই মধ্যে আরও একটা কথা মনে রাখতে হবে। বিদ্যাসাগর
বাংলা গদ্যের জনক না হলেও শিল্পসম্মত গদ্য রীতির উদ্ভাবয়িতা, তাহার মৌলিক ও অনুবাদ
গ্রন্থ গুলির ভাষা দেখলেই বোঝা যাবে।
তাকে আবার কেউ কেউ অনুবাদক বলে কিঞ্চিত কৃপা করে
থাকেন। এই কথাও হাস্যকর। তার অনুবাদ গ্রন্থ মৌলিক সাহিত্যের মত এক প্রকার নতুন
সৃষ্টি। এছাড়াও তার মৌলিক পুস্তিকা গুলিতে গদ্যরীতির সার্থক দৃষ্টান্ত পাওয়া
যায়। বাঙালির গদ্যসাহিত্যের দ্রুত উন্নতি ও শিক্ষা প্রচারকল্পে মৌলিক রচনাশক্তিতে
সংহরণ করে তারঁ সমস্ত প্রতিভাকে অনুবাদকার্যে নিয়োগ করতে হয়েছিল।
অলস সাহিত্যচিন্তা এই কর্মযোগী মহাপুরুষ আদৌ রুচিকর ছিল না। সম্ভবত তিনি 'art for art's sake' নীতিতে ততটা বিশ্বাসী ছিলেন না। জনকল্যাণ সাহিত্য রচনার মূল উদ্দেশ্য--- গান মতো জনহিত ব্রতীর এরকম অভিলাষ থাকাই সম্ভব।
বিদ্যাসাগর কর্তৃক অনুদিত গ্রন্থ
বিদ্যাসাগরের অধিকাংশ রচনা অনুবাদ মূলক সংস্কৃত, ইংরেজি ও হিন্দুস্থানীয থেকে
স্বাধীনভাবে ভাষান্তর।১৮৪৭ থেকে ১৮৯১ সালের মধ্যে তিনি অনেক গ্রন্থের অনুবাদ করেছিলেন।
১. 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'(১৮৪৭) সংস্কৃত গ্রন্থ থেকে নয়, হিন্দি
'বৈতাল পচ্চীসী' থেকে অনুবাদ। তখন তিনি হিন্দি ভাষা শিখেছিলেন, সেই ভাষা জ্ঞান
পরীক্ষা করেছেন এই অনুবাদে।
২. 'শকুন্তলা'(১৮৫৪) কালিদাসের 'অভিজ্ঞান শকুন্তল'- নাটকের
স্বচ্ছন্দ গদ্যানুবাদ।
৩. 'সীতার বনবাস'(১৮৬০) ভবভূতির 'উত্তরচরিত' এবং বাল্মিকী
রামায়ণের উত্তরকাণ্ডের আখ্যানের অনুসরণ।
৪. 'ভ্রান্তিবিলাস'(১৮৬৯) শেক্সপীয়রের 'Comedy of Errors' এর
গদ্যে অনুবাদ -- অবশ্য শেক্সপীয়রীয় বিদেশি কাহিনীটিকে দেশীয় পরিচ্ছদ দেবার জন্য
নাটকের পাত্র পাত্রীর নাম পাল্টে তিনি ভারতীয় নাম দিয়েছেন,ফলে বিদেশি কাহিনী
একেবারে এদেশী রুপ ধরেছে। এগুলি হল বিশুদ্ধ সাহিত্য গ্রন্থের অনুবাদ। কাব্য বা
নাটকের অনুবাদে তিনি কিন্তু গদ্য আখ্যানের রীতি গ্রহণ করেছেন। ফলে এ গুলিতে এক
প্রকার নতুন স্বাদ সঞ্চারিত হয়েছে। এছাড়া তিনি কয়েকখানি পাঠ্য গ্রন্থেরও অনুবাদ
করেছিলেন। যথা:
মার্শম্যানের History of Bengal এর কয়েক অধ্যায়ে অবলম্বনে' 'বাঙ্গালার
ইতিহাস'( ১৯৪৮),
চেম্বার্সের 'Biographies' অবলম্বনে 'জীবনচরিত'(১৯৪৯) ও Rudiments of knowledge'-অবলম্বনে 'বোধোদয়'(১৮৫১) এবং ঈশপের গল্প
ফেবলস অবলম্বনে 'কথামালা'(১৮৫৬) রচনা করেন।
অনুবাদ গুলি যথার্থ মৌলিক গ্রন্থের মত মর্যাদা
পেয়েছে --কোন কোনটি প্রায় ক্লাসিক সাহিত্যের পর্যায়ে উঠে গেছে। অনুবাদ ভিন্ন
অতি দ্রুত গদ্যসাহিত্যের উন্নতি করা যায় না। সেই জন্য নিছক রূপচর্চার ছেড়ে দিয়ে
শাশ্বত প্রতিভাকে অনুবাদ কর্মে নিয়োগ করেছিলেন।
★বিদ্যাসাগরের
মৌলিক পুস্তিকাঃ
বিদ্যাসাগরের মৌলিক পুস্তিকার সংখ্যাও কিছু কম নয়।
'সংস্কৃত ভাষা ও সংস্কৃতি সাহিত্য শাস্ত্রবিষয়ক প্রস্তাব'(১৮৫৩) বাঙালির
লেখা সংস্কৃত সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস।
'বিধবা বিবাহ চলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব'(১ম খন্ড -১৮৫৫,২য় খন্ড
--ঐ) এবং
'বহুবিবাহ রচিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব'(১ম --১৮৭১,২য়-১৮৭৩) শীর্ষক
পুস্তিকা গুলিতে তাঁর অভ্রান্ত যুক্তি তথ্যের এবং তীক্ষ্ম বিশ্লেষণ যথার্থ
প্রাবন্ধিকের প্রতিভা সুপ্রমাণিত হয়েছে। যাঁরা তাঁকে শুধু অনুবাদক বলে তার
সাহিত্য- প্রচেষ্টাকে লঘু করবার চেষ্টা করেছেন, তাঁরা এই মৌলিক প্রবন্ধ পুস্তিকা
গুলি পড়ে দেখেননি।
★তাঁর স্বরচিত
জীবনচরিত'বিদ্যাসাগরচরিত'(১৮৯১) এবং 'প্রভাবতী সম্ভাষণ'(আনুমানিক
-১৮৬৩) বিশুদ্ধ সাহিত্যকর্ম হিসেবে অতীব সুখপাঠ্য হয়েছে।তাঁর আত্মজীবনীটি বাংলা
জীবনী সাহিত্যের সম্পদবিশেষ।
★এছাড়া 'অতি
অল্প হইল'(১৮৭৩),'আবার অতি অল্প হইল'(১৮৭৩) এবং ' ব্রজবিলাস'(১৮৮৪)
তিনখানি পুস্তিকা 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' এই ছদ্মনামে
প্রকাশিত হয়।
'রত্নপরীক্ষা'(১৮৬৬) 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো সহচরস্য' ছদ্মনামে
প্রকাশিত হয়েছিল। এতে প্রত্যক্ষভাবে তার নাম না থাকলেও অন্যান্য প্রমাণের বলে
এগুলো তার রচনা বলেই সিদ্ধান্ত করা হয়েছে।
বাংলা গদ্যে যদি সন্নিবেশ করে, পদবন্ধে ভাগ করে এবং সুললিত শব্দ বিন্যাস করে
বিদ্যাসাগর তত্ত্বের ভাষাকে রসের ভাষায় পরিণত করেছেন। বাংলা
গদ্যের মধ্যেও এরকম ধ্বনিঝংকার ও সুরবিন্যাস সম্ভব, তা তারঁ আগে কেউ-ই জানতেন
না।তাঁর পরিকল্পিত সাধু ভাষাই প্রার্ দেড় শতাব্দী ধরে বাঙালির লেখনীর মুখে ভাষা
বের...............
জুগিয়েছে। এ বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন," বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্য
ভাষার উচ্ছৃঙ্খল জনতাকে সুবিভক্ত,সুবিন্নস্ত,সুপরিচ্ছন্ন এবং সুসংযত করিয়া তাহাকে
সহজগতি এবং কার্যকূশলকা দান করিয়াছেন।"
উল্লিখিত দৃষ্টান্ত থেকেই এ কথা সহজেই বোঝা যাবে যে, বাংলা গদ্যের কায়া নির্মাণে
যারা দায়ী থাকুক না কেন, এর শ্রী ও হ্রী --- বিদ্যাসাগরের দান। শতাধিক বৎসর ধরে
বাঙালি জাতি তার গদ্যরীতি অবলম্বন করে আসছে। আধুনিককালে গদ্যের অনেক বৈচিত্র দেখা
গেছে, কিন্তু পদান্বয় ও যতি বন্ধনে এখনো আমরা বিদ্যাসাগরকে ছাড়িয়ে নতুন কোন পদ
আবিষ্কার করতে পারিনি-- যদি কেউ সেরকম দুঃসাধ্য চেষ্টায় আত্মনিয়োগ করেও থাকেন,
তবু সে রীতি এখনও-- জনসমর্থন লাভ করতে পারেনি, জনবল্লভতা তো দূরের কথা।
Saturday, August 17, 2019
গুরুত্বপূর্ণ এক কথায় প্রকাশ-
অনুকরণ করার ইচ্ছা =অনুচির্কীষা
অপকার করার ইচ্ছা =অপচির্কীষা
উপকার করার ইচ্ছা =উপচির্কীষা
প্রতিকার করার ইচ্ছা =প্রতিচিকীষা
করার ইচ্ছা =চির্কীষা
বাস করার ইচ্ছা =বিবৎসা
.
গম্ভীর ধ্বনি=মন্দ্র
* মুক্তি পেতে ইচ্ছা=মুমুক্ষা
বিজয় লাভের ইচ্ছা=বিজিগীষা
*প্রবেশ করার ইচ্ছা=বিবক্ষা
বমন করিবার ইচ্ছা=বিবমিষা
* রমণ বা সঙ্গমের ইচ্ছা=রিরংসা
* জয় করার ইচ্ছা =জিগীষা
* দেখবার ইচ্ছা =দিদৃক্ষা
.
জানিবার যোগ্য=জ্ঞাতব্য
প্রশংসার যোগ্য=প্রশংসার্হ
ঘ্রাণের যোগ্য=ঘ্রেয়
* যাহা সহজে উত্তীর্ণ হওয়া যায় না=দুস্তর
যা পূর্বে চিন্তা করা যায়নি=অচিন্তিতপূর্ব
যা বলা হচ্ছে =বক্ষ্যমাণ
* যা কথায় বর্ণনা করা যায় না =অবর্ণনীয়
* যা বাক্যে প্রকাশ করা যায় না =অনির্বচনীয়
.
* বাতাসে চরে যে=কপোত
পূর্ব জন্মের কথা স্মরণ আছে যার=জাতিস্বর
সরোবরে জন্মায় যাহা=সরোজ
.
যা পুনঃ পুনঃ জ্বলিতেছে =জাজ্বল্যমান
সকলের জন্য প্রযোজ্য=সর্বজনীন
সকলের জন্য অনুষ্ঠিত =সার্বজনীন
রাত্রির মধ্যভাগ=মহানিশা
স্মৃতিশাস্ত্রে পণ্ডিত যিনি=শাস্ত্রজ্ঞ
স্মৃতি শাস্ত্র রচনা করেন যিনি=শাস্ত্রকার
যিনি স্মৃতি শাস্ত্র জানেন=স্মার্ত
শক্তির উপাসনা করে যে = শাক্ত
যে ব্যক্তি এক ঘর হতে অন্য ঘরে ভিক্ষা করে বেড়ায়=মাধুকর
নিজেকে যে নিজেই সৃষ্টি করেছে=সয়ম্ভূ
নিতান্ত দগ্ধ হয় যে সময়ে (গ্রীষ্মকাল)=নিদাঘ
যা গতিশীল = জঙ্গম
যে বিষয়ে কোন বিতর্ক নেই=অবিসংবাদী
অঙ্গীকৃত মাল তৈরির জন্য প্রদত্ত অগ্রিম অর্থ=দাদন
অতি উচ্চ ধ্বনি =মহানাদ
অতিশয় রমণীয়=সুরম্য
.
অগ্র-পশ্চাৎ ক্রম অনুযায়ী =আনুপূর্বিক
অবজ্ঞায় নাক উঁচু করে যে=উন্নাসিক
অসির শব্দ=ঝঞ্জনা
অন্ধকার রাত্রি =তামসী
অশ্বের চালক=সাদী
.
ঈষৎ উষ্ণ =কবোষ্ণ
ঈষৎ পাংশু বর্ণ=কয়রা
আকস্মিক দুর্দৈব =উপদ্রব
.
আজীবন সধবা যে নারী=চিরায়ুষ্মতী
উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ধন=রিকথ
উটের/হস্তীর শাবক=করভ
ঋষির দ্বারা উক্ত(কথিত) =আর্য
ক্ষুধার অল্পতা=অগ্নিমান্দ্য
কৃষ্ণবর্ণ হরিণ=কালসার
কাচের তৈরি ঘর=শিশমহল
কোন বিষয়ে যে শ্রদ্ধা হারিয়েছে=বীতশ্রদ্ধ
কচি তৃণাবৃত ভূমি=শাদ্বল
গৃহের প্রধান প্রবেশ পথ=দেহলি,দেউড়ি
গর্দভের বাসস্থান =খরশাল
গুরুগৃহে বাস=অন্তেবাসী
.
গুরুর পত্নী =গুর্বী
গাধার ডাক=রাসভ
ঘর্ষণ বা পেষণজাত গন্ধ=পরিমল
চোখের কোণ=অপাঙ্গ
জানায় যে=জ্ঞাপক
জানা উচিত =জ্ঞেয়
ত্বরার সঙ্গে বর্তমান=সত্বর
ত্বরায় গমন করে যে=তুরগ
তরল অথচ গাঢ়=সান্দ্র
তোপের ধ্বনি=গুড়ুম
থেমে থেমে চলার যে ভঙ্গি=ঠমক
.
দেবতা থেকে উৎপন্ন বা
দৈবজাত=আধিদৈবিক
দুরথীর যুদ্ধ =দ্বৈরথ
দুই নদীর মধ্যবর্তী স্থান =দোয়াব
দৈনন্দিন জীবনের লিখিত বিবরণ=রোজনামচা
দুগ্ধবতী গাভী=পয়স্বিনী
.
নিবেদন করা হয় যা=নৈবদ্য
নিকৃষ্ট ব্যক্তি =অজন
নিচে জল আছে যার=অন্তঃসলিলা
প্রস্থান করতে উদ্যত =চলিষ্ণু
প্রদীপ শীর্ষের কালি=অঞ্জন
পেতে ইচ্ছা=ঈপ্সা
পায়ে হেঁটে যে গমন করে না=পন্নগ
পায়ে হাঁটা =পদব্রজ
ফিকা কমলা রঙ=বাসন্তী
পূর্ণিমার চাঁদ =রাকা
প্রভাতের নবোদিত সূর্য=বালার্ক
বসন আলগা যার=অসংবৃত
বেলা ভূমিকে অতিক্রম =উদ্বেল
বিশেষ ভাবে দর্শন =বীক্ষণ
মেঘের ধ্বনি=জীমূতমন্ত্র
মাথায় টাক=খলতি
যার কিছু নেই=আকিঞ্চন
.
যার দিক থেকে চক্ষু ফেরানো যায় না=অসেচনক
যা গমন করে না=নগ
যার স্পৃহা দূর হয়েছে=বীতস্পৃহ
লয় প্রাপ্ত হয়েছে=লীন
শত্রুকে পীড়া দেয় যে=পরন্তপ
সুদে টাকা খাটানো=তেজারতি
হস্তী রাখার স্থান =বারী,পিলখানা
হস্তীর চারণভূমি=প্রচার
হত্যা করে যে=হন্তারক
অব্যক্ত মধুর ধ্বনি=কলতান
যার বাসস্থান নেই=অনিকেতন
জয়লাভ করতে অভ্যস্ত যে=জিষ্ণু
দান করে যে কেড়ে নেয়=দত্তাপহারী
দান করার ইচ্ছা=দিৎসা
ন্যায় শাস্ত্রে পণ্ডিত যিনি=নৈয়ায়িক
যে সুপথ থেকে ভিন্ন পথে গেছে=উন্মার্গগামী
যে পার হতে ইচ্ছুক=তিতীর্যু
যে অট্টালিকা দেখতে সুন্দর=হর্ম্য
.
যা বিচারের দ্বারা ঠিক করা যায় না=অপ্রতর্ক্য
শুনতে ইচ্ছুক=শুশ্রুষু
রঘুর পুত্র=রাঘব
হাতির পিঠে আরোহী বসার স্থান=হাওদা
সন্তানের মত যত্নে=অপত্যনির্বিশেষে
যে রমণীর হাসি পবিত্র=শুচিস্মিতা
.
যা কষ্টে নিবারণ করা যায় =দুর্নিবার
প্রায় প্রভাত হয়েছে এমন =প্রভাতকল্পা
রাত্রির প্রথম ভাগ =পূর্বরাত্র
রাত্রির মধ্যভাগ =মহানিশা
রাত্রির তিন ভাগ একত্রে =ত্রিযামা
রাত্রিকালীন যুদ্ধ =সৌপ্তিক
পরের অন্নে যে জীবন ধারণ করে =পরান্নজীবী
পরকে প্রতিপালন করে যে =পরভৃৎ
শোনা যায় এমন =শ্রুতিগ্রাহ্য
বাদ্যযন্ত্রের ধ্বনি =ঝংকার
ধনুকের ধ্বনি =টংকার
.
ক্ষমা করার ইচ্ছা=চিক্ষমিষা
ত্রাণ লাভ করার ইচ্ছা=তিতীর্ষা
গমন করার ইচ্ছা=জিগমিষা
নিন্দা করার ইচ্ছা=জুগুপ্সা
বেঁচে থাকার ইচ্ছা=জিজীবিষা
পেতে ইচ্ছা=ঈপ্সা
.
যে নারীর স্বামী ও পুত্র জীবিত =বীরা,পুরন্ধ্রী
যে নারীর সম্প্রতি বিয়ে হয়েছে =নবোঢ়া
যে নারী অন্য কারও প্রতি আসক্ত হয় না=অনন্য
যে নারীর সতীন/শত্রু নেই =নিঃসপ্ত
সম্পূর্ণ বিবেচনা করা হয় নাই এমন=অসমীক্ষিত
.
কামনা দূর হয়েছে যার =বিতস্কাম
পিতার ভ্রাতা =পিতৃব্য
যে মেঘে প্রচুর বৃষ্টি হয় =সংবর্ত
ঈষৎ কম্পিত =আধত
.
ঈষৎ পাংশুবর্ণ =কয়রা
কষ্টে অতিক্রম করা যায় না যা =দুরতিক্রম্য
যা সহজে অতিক্রম করা যায় না =দুরতিক্রম্য
যা কষ্টে নিবারণ করা যায় =দুর্নিবার
অক্ষির সমীপে =সমক্ষ
বেঁচে থাকার ইচ্ছা =জিজীবিষা
রচয়িতার মূল গ্রন্হ হতে যারা প্রাচীন পাণ্ডুলিপি লিপিবদ্ধ করেন =লিপিকার
যাহা কষ্টে অর্জন করা যায় =কষ্টার্জিত
যা সহ্য করা যায় না =দুর্বিষহ
যা সহজে মরে না =দুর্মর
যা অতিক্রম করা যায় না =অনতিক্রম্য
যা দমন করা কষ্টকর =দুর্দমনীয়
যা নিবারন করা যায় না =অনিবারিত
জন্মে নাই যা =অজ
প্রমথ চৌধুরী থেকে একরাম চৌধুরী
ইংরেজি পরীক্ষা।
Ray শব্দের অর্থ পারছে না সবুজ । খুব বাজে ওয়ার্ড।সে তার সামনের টুলে বসা মিনহাজকে বলল, রে অর্থ কীরে?
উত্তর বঙ্গের ছেলে মিনহাজ বলল, রশ্মি (রোশশিঁ)। সিলটি পোলা সবুজ মনে করল অ আ ই; সে লিখল, Ray অর্থ ‘ই’ (হ্রস্ব-ই)। বাসায় গিয়ে দেখল ঠিক হয়নি। সবুজ বেটা রশমি-কে ‘রোশশিঁ’ বলে তার একটা নাম্বার কমিয়ে দিয়েছে। যত গন্ডগোল শালার ওই ম-তে। ম- মানে মরণ।
বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা। বীরবলের হালখাতা গ্রন্থের লেখকের নাম কিছুতেই মনে করতে পারছিল না সবুজ। বলল, এই মিনহাজ, ‘বীরবলের হালখাতা’ কে লিখেছে রে?
মিনহাজ বলল, “প্রমথ চৌধুরী”। প্রমথ চৌধুরী কারো নাম হতে পারে না, সবুজ ভাবল। নিশ্চয় ইংরেজি পরীক্ষার মতো শালা ‘ম’-টাকে উলটে দিয়েছে। সিলটি পোলার বুদ্ধি একটু বেশি কিনা। সবুজ প্রমথ চৌধুরী লিখল না। লিখল, বীরবলের হালখাতা গ্রন্থের লেখক ‘প্রথম চৌধুরী’।
সবুজের পিছনে সুনামগঞ্জের পোলা রাকিব। সেও প্রশ্নটা পারছিল না। উঁকি দিয়ে দেখে নিল সবুজের খাতা। সবুজ লিখেছে, বীরবলের হালখাতা গ্রন্থের লেখক “প্রথম চৌধুরী”।কিন্তু একই রকম লেখা যাবে না। সনৎ স্যার বলেছেন, “মেট্রিক পরীক্ষায় দুজনের উত্তর মিলে গেলে গোল্লা দেবে একজামিনার।” প্রথম চৌধুরী লিখলে একজামিনার মনে করবেন - নকল করে লিখেছে। অত বোকা নয়, রাকিব। সে লিখল বীরবলের হালখাতা গ্রন্থের লেখক “১ম চৌধুরী”।
রাকিবের পেছনে ছিল, চাটগাঁইয়া পোঁয়া সাঈদ। সে রাকিবের খাতা দেখে নিল; রাকিব লিখেছে ‘বীরবলের হালখাতা’র লেখক ১ম চৌধুরী। কিন্তু সে একই রকম লিখে নকলের ফাঁদে পড়তে চায় না। নকল করলে গোল্লা। চাটগাঁইয়া পোঁয়া, মেডিত পইল্যে লোয়া। সাঈদ লিখল, ‘বীরবলের হালখাতা’র লেখক এক ম চৌধুরী। সাঈদের পিছনে কক্সবাজারের মাইয়ো পোঁয়া রাজিয়া উঁকি দিয়ে দেখল, কিন্তু ভালোভাবে বুঝতে পারল না। ছেলেদের সঙ্গে তখন কথা বলা ছিল নিষিদ্ধ।রাজিয়া লিখল ‘বীরবলের হালখাতা’র লেখক একরাম চৌধুরী।
এই খাতাগুলো ঘটনাচক্রে মেট্রিক পরীক্ষার তৎকালীন প্রধান এক্সামিনার প্রমথ চৌধুরীর হাতে গিয়ে পড়ল। তিনি সিলটি ও চাটগাঁইয়া পোলাপানদের হাতে নিজের নামের এমন দুরবস্থা দেখে রাগে-ক্ষোভে মাথার সামনের সবগুলো চুল তুলে ফেলতে শুরু করেন।কিয়দংশ টাকু হবার পর বউ এসে বললেন, এমন পাগলামি করছ কেন? এমন করলে তোমাকে তো তোমার দেশের বাড়ি পাবনা পাঠিয়ে দিতে হবে।
না, আমি পাবনা যাব না, চিৎকার দিয়ে বললেন প্রমথ চৌধুরী, “আমি রবীন্দ্রনাথের বড়ো ভাই উপমহাদেশের প্রথম আইসিএস সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের মেয়ে ইন্দিরা দেবীর স্বামী, আশুতোষ চৌধুরী আমার বড়ো ভাই, আমি বাংলা সাহিত্যে ইতালীয় সনেটের প্রবর্তক, আমি ব্যারিস্টার, আমি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম-- আমাকে কিনা; ছি ছি ছি!” আমার সঙ্গে বিদ্রুপ?
বউ বললেন, তুমি বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রূপাত্মক প্রবন্ধের রচয়িতা। হয়তো এজন্য বিদ্রূপ করে তোমার স্বীকৃতি দিয়েছে।
অমন স্বীকৃতি আমি চাই না, আবার চুল ছিড়তে শুরু করেন প্রমথ চৌধুরী।
বউ বললেন, তুমি বাংলায় চলিত রীতির প্রবর্তক, তাই ওরা তোমার নামকেও চলিত ভাষায় অনুবাদ করেছে। তোমার তো খুশী হওয়ার কথা।এটা তোমার উপহার গো।
এমন উপহার আমি চাই না, চাই না; এ উপহার আমার নাহি সাজে- - -।
কী হয়েছে গো, বলো না?
প্রমথ চৌধুরী ব্যথাকাতর গলায় বললেন, “বাংলা ভাষা আহত হয়েছে সিলেটে আর নিহত হয়েছে চট্টগ্রামে।”
ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
Recent Post
Most Popular Post
-
অলঙ্কার এর সংজ্ঞাঃ অলঙ্কার কথাটি এসেছে সংস্কৃত 'অলম' শব্দ থেকে।অলম শব্দের অর্থ ভূষণ।ভূষণ অর্থ সজ্জা,গহনা ইত্যাদি। তাই আভিধানিক অর্থে...
-
নৌকাডুবি (১৯০৬) চরিত্র ও তথ্য সমূহ ১. রমেশঃকলকাতা/Law/বাবার চিঠি/ ২. হেমনলিনীঃমাতৃহীন/ ৩. কমলাঃ ৪. ডাক্তার নলিনাক্ষঃ * গঙ্গার প্রবল ঘুর্ণিঝড়...
-
ভূমিকা : ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যাঁর নামটি জড়িত, তিনি হলেন সৈয়দ মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর। জন্ম পরিচয় : তিতুমীর ভারতের পশ্চিমবঙ...
-
উত্তর: অ-ধ্বনির সংবৃত উচ্চারণের নিয়ম নিম্নরুপ।যথা: ১. 'অ'অথবা নিহিত 'অ'-ধ্বনির পর ই-কার বা উ-কার হলে, তবে অ-ধ্বনির উচ্চারণ...
-
বিষয় : বাংলা সময়------২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট পূর্ণমান-১০০ দ্রষ্টব্য : ডান পাশে উল্লিখিত সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক । নিচের অনুচ্ছেদট...
-
অর্থালঙ্কার: অর্থালঙ্কারের প্রকারভেদ: অর্থালঙ্কার পাঁচ প্রকার।যথা: ১. সাদৃশ্যমূলক ২. বিরোধমূলক ৩. শৃঙ্খলামূলক ৪. ন্যায়মূলক ৫. গূঢ়ার্থ...
-
বলাকা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সন্ধ্যারাগে ঝিলিমিলি ঝিলমের স্রোতখানি বাঁকা আঁধারে মলিন হল–যেন খাপে-ঢাকা বাঁকা তলোয়ার; দিনের ভাঁটার শেষে রাত...