Ad-1

Monday, November 18, 2019

এলএল, বি (শেষ বর্ষ) প্রশ্ন-২০১৬ সাক্ষ্য আইন

বিষয় : সাক্ষ্য আইন

১.ক) সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ কি স্বয়ংসম্পূর্ণ সংহিতা?খ)সাক্ষ্য আইন প্রয়ােগে প্রধান প্রধান নীতি উল্লেখ কর।
গ) অপরাধ প্রমাণে সাক্ষ্যের গুরুত্ব সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখ।
২.ক) সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ অনুযায়ী চরিত্র বলতে কি বুঝ?
খ) পূর্ববর্তী দণ্ডাদেশ কি খারাপ চরিত্রের সাক্ষ্য হিসাবে প্রাসঙ্গিক? আলােচনা কর।
গ) কখন দেওয়ানী ও ফৌজদারী মামলায় চরিত্র সংক্রান্ত সাক্ষ্য প্রাসঙ্গিক?
৩. ইংগিতবাহী প্রশ্ন বলতে কি বুঝ? সাক্ষীকে কখন ইংগিতবাহী প্রশ্ন করা যায়? সাক্ষীর বিশ্বাসযােগ্যতা কিভাবে হরণ করা যায়? কি কি কারণে একজন বিচারক এ প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে পারেন ? প্রশ্ন আইনসম্মত ও প্রাসঙ্গিক হওয়া সত্ত্বেও কখন সাক্ষীকে প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য করা যায় না?
৪. ক) মৃত্যুকালীন ঘােষণা কি? এটা কিভাবে প্রমাণ করা যায়?
খ) কী কারণে মৃত্যুকালীন ঘােষণা সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণ করা হয়?
গ) মৃত্যুকালীন ঘােষণাদানকারী যদি দৈবাৎ বেঁচে যায় তাহলে তার ঘােষণা কি সাক্ষ্য আইন ১৮৭২ এর বিধান অনুযায়ী সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযােগ্য ?
ঘ) মৃত্যুকালীন ঘােষণা বিষেয়ে ইংলিশ আইন এবং বাংলাদেশের আইনের মধ্যে পার্থক্য লিখ।
৫.ক) জনশ্রুতি কোন সাক্ষ্য নয়-সংক্ষেপে এই নীতির ব্যতিক্রমসমূহ আলােচনা কর।
খ) জবানবন্দী ও জেরার প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য আলােচনা কর।
গ) জেরার সময় আইন-সংগতভাবে কি কি প্রশ্ন করা যায় বর্ণনা কর।
৬। ক) সাক্ষ্য আইনে প্রাসঙ্গিকতা বলতে কি বুঝ?
খ) ঘটনার প্রাসঙ্গিকভাবে তার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইনের নীতিসমূহ কি কি?
গ) কোন ঘটনা আদালতে প্রমাণের প্রয়ােজন নেই?
৭.ক) বিশেষজ্ঞ কে ? একজন বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ সাক্ষীর মধ্যে পার্থক্য কি?
খ) কখন একজন বিশেষজ্ঞের মতামত প্রাসঙ্গিক ? তার মতামত কি আদালত মানতে বাধ্য?
গ) হস্তলেখা প্রমাণের বিভিন্ন পদ্ধতি বর্ণনা কর।
৮. নিম্নের যে কোন পাঁচটি বিষয়ের উপর টীকা লিখ :
ক) স্বীকৃতি এবং স্বীকারােক্তি;
খ)বিদ্রোহী সাক্ষী;
গ) এসটোপেল;
ঘ) জুডিসিয়াল নােটিশ;
ঙ) মৌখিক সাক্ষ্য;
চ)প্রমাণের দায়িত্ব;
ছ) সরকারি দলিল।

Sunday, November 17, 2019

এক বন্ধুর আসমানে ঘুরা আরেক বন্ধুর বিরানি খাওয়া

হিন্দু, মুসলিম,খ্রিষ্টান ওরা তিনজন বন্ধু।একরাতে ওরা একটা বিরিয়ানি পেল।কিন্তু কে সেটা খাবে সেটা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।অবশেষে তারা সিদ্ধান্ত নিল তারা রাতে ঘুমিয়ে পড়বে এবং রাতে যে সবচেয়ে সুন্দর স্বপ্ন দেখবে সেই ভোরে ওঠে সেই বিরিয়ানিটা খেয়ে ফেলবে।তারা ঘুমিয়ে পড়ল।

রাত তিনটার সময় মুসলমান বন্ধু হঠাৎ ঘুম থেকে ওঠে দেখে ওরা দুইজন নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে।তাদের ঘুমানোর ফাঁকে সে বিরিয়ানিটা খেয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়ল।

ভোরে তিনজনেই ঘুম থেকে উঠল।এবার একজন আরেকজনের স্বপ্ন বলতে লাগল।আসলে কেউ সত্যিকারের কোন স্বপ্ন দেখেনি।কিন্তু মিথ্যা বানিয়ে বানিয়ে স্বপ্ন বলতে লাগল।

প্রথমে খ্রিষ্টান বলল;আমি রাতে স্বপ্ন দেখলাম,স্বয়ং যিশু এসে আমার হাত ধরে নিয়ে গিয়ে পুরো পৃথিবীসহ সমস্ত আসমান ভ্রমণ করেছি।

হিন্দুজন বলল;আমি স্বপ্ন দেখেছি,স্বয়ং কৃষ্ণ এসে আমাকে বৃন্দাবনে নিয়ে গেছে আর আমি রাধার সঙ্গে বসে লুডু খেলতে দেখছি।

ওরা দুজনেই বলল,ভাই এবার তোমারটা বলো তুমি কী দেখেছ?
আমি বলতে চাচ্ছি না,কারণ আমি একটা খুব ভয়ঙ্কর স্বপ্ন দেখেছি।ওরা বলল,তবুও বল,আমরা শুনতে চাচ্ছি।

এবার বলল; আমি স্বপ্ন দেখেছি,একটা সুবিশাল দৈত্য এসে আমাকে বলতেছে তুই বিরানিটা খেয়ে ফেল না হয় তোরে মেরে ফেলব।তাই আমি রাতেই ওঠে বিরানিটা খেয়ে ফেললাম।
ওরা দুইজন বলল,তো তুই তখন আমাদের ডাকিস নাই কেন???
আমরা ওঠে তোকে সাহস দিতাম।
মুসলিম বন্ধু বলল,তোদের ডাকতে চেয়েছিলাম,কিন্তু তোদের পায়নি তোরা তো একজন চলে গেছস আসমানে আরেকজন চলে গেছস বৃন্দাবনে।তো তোদের পাব কেমনে???

Friday, November 8, 2019

যারা মূল্যায়ন করবে তাদের কাছে যাবে

মৃত্যুর পূর্বে একজন পিতা তার সন্তানকে কাছে ডেকে বললেন, 'এই নাও! এই ঘড়িটা আজ আমি তোমাকে দিলাম। আমাকে দিয়েছিলো তোমার দাদা। ঘড়িটা দুইশত বছর আগের। তবে, ঘড়িটা নেওয়ার আগে তোমাকে একটা কাজ করতে হবে'।

ছেলেটা বললো, 'কি কাজ?'

- 'এই ঘড়িটা নিয়ে রাস্তার পাশের ঘড়ির দোকানে যাবে। তাদের বলবে যে এই ঘড়ি তুমি বিক্রি করতে চাও'।

ছেলেটা তা-ই করলো। ঘড়িটা রাস্তার পাশের একটা ঘড়ির দোকানে বিক্রি করতে নিয়ে গেলো। সে ফিরে এলে তার বাবা বললো, 'ঘড়ির দোকানদার কতো টাকা দিতে চাইলো ঘড়িটার বিনিময়ে?'

ছেলেটা বললো, 'একশো টাকা মাত্র। ঘড়িটা নাকি অনেক পুরাতন, তাই'।

বাবা বললেন, 'এবার পাশের কফি শপে যাও। তাদেরকে বলো যে তুমি এই ঘড়ি বিক্রি করতে চাও'।

ছেলেটা তা-ই করলো। ঘড়িটা নিয়ে পাশের এক কফি শপে গেলো৷ ফিরে এলে তার বাবা জানতে চাইলো, 'কি বললো ওরা?'

- 'ওরা তো এটা নিতেই চাইলো না। বললো, এতো পুরোনো, নোংরা ঘড়ি দিয়ে আমাদের কি হবে?'

বাবা হাসলেন। বললেন, 'এবার তুমি এই ঘড়ি নিয়ে জাদুঘরে যাও। তাদের বলো যে এই ঘড়িটা আজ থেকে দুই'শতো বছর আগের'।

ছেলেটা এবারও তা-ই করলো। সে ঘড়িটা নিয়ে জাদুঘরে গেলো। ফিরে এলে তার বাবা বললো, 'কি বললো ওরা?'

- 'ওরা তো ঘড়িটা দেখে চমকে উঠেছে প্রায়! তারা এই ঘড়ির দাম বাবদ এক লক্ষ টাকা দিতে চাইলো আমাকে'।

ছেলের কথা শুনে বাবা হাসলেন। বললেন, 'আমার সন্তান! আমি তোমাকে এটাই শিখাতে চাচ্ছিলাম যে, যারা তোমার মূল্য বুঝবে তারা ঠিকই তোমাকে জীবনে মূল্যায়ন করবে। আর যারা তোমার মূল্য বুঝবে না, তারা কোনোদিনও তোমাকে মূল্যায়ন করবে না।

তাই, যারা তোমাকে মূল্যায়ন করবে না, তাদের আচরণে কিংবা কথায় কখনো হতাশ হয়ে পড়ো না। এমনকি জোর করে তাদের নিজের মূল্য বুঝাতে যেও না। কেননা তারা তোমার মূল্য বুঝতে অক্ষম।
তুমি তাদের কাছেই যাবে, যারা তোমার সত্যিকার মূল্য বুঝবে, সম্মান করবে, ভালোবাসবে !

#সংগৃহীত

Saturday, November 2, 2019

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা,২০১৯

সেট-০২(বোর্ড প্রশ্ন)
জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা,২০১৯
বাংলা(সৃজনশীল+নির্মিতি+বহুনির্বাচনি অভীক্ষা)
বিষয় কোড: ১০১
সময় - ৩ ঘণ্টা                                 পূর্ণমাণ-৪০ + ৩০+ ৩০ = ১০০
দ্রষ্টব্য : ডান পাশের সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমাণ জ্ঞাপক।প্রদত্ত উদ্দীপকগুলো মনোযোগ সহকারে পড়ো এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দাও।একই প্রশ্নের উত্তরে সাধু ও চলিত ভাষারীতির মিশ্রণ দূষণীয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন (মান-৪০)
গদ্যাংশ

(যে কোনাে দুটি প্রশ্নের উত্তরা দাও)
১. বাদল সাহেব ভাবেটিস রোগী। ডাক্তারের পরামর্শে প্রতিদিন বিকেলে হাঁটতে বের হন। হাঁটতে গিয়ে দেখেন তাঁর মতো অনেকেই হাঁটতে বের হয়েছে। যারা হতে বের হয়েছে তাদের অনেকেই স্থুলকায়। একটু হাঁটলেই হাঁপিয়ে যায় ।তারপরও তাদের হাঁটার প্রাণপণ চেষ্টা।হঠাৎ বাদল সাহেব দেখতে পান রাস্তার পাশে এক বিড়াল ছানা অসুস্থ অবস্থায় পড়ে আছে। তিনি বিড়াল ছানাটাকে নিয়ে বাসায় চলে যান এবং পরম যত্নে তাদের কে সুস্থ করে তোলেন।
ক) কী দেখে লেখকের সত্যিকার ভাবনা ঘুচে গেল?
(খ) আতিথ্যের মর্যাদা লঙ্গন বলতে অতিথির স্মৃতি' গল্পে কী বােঝানো হয়েছে?
(গ) উদ্দীপকে উল্লেখিত লােকদের হাঁটার প্রাণপণ চেষ্টা 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের কোন দিককে নির্দেশ করে- ব্যাখ্যা করো। ৫
(থ) উদ্দীপকে বাদল সাহেবের প্রাণীর প্রতি মমত্ত্ববোধে 'অতিথির স্মৃতি ' গল্পের লেখকের মমত্ববােধের পূর্ণাঙ্গ রূপ ফুটে ওঠেছে কী?যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো ।

২. কলিদের বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা সফরে সোনারগাঁ লোকশিল্প যাদুঘর দেখতে যায়।সোনারগাঁয়ে তখন লোকজ মেলা চলছিল।তারা মেলা ঘুরে ঘুরে মাটির তৈরি ফুলদানি,গহনা,বাসন-কোসন ইত্যাদি দেখে বেশ মজা পেল এবং কিছু জিনিস কিনল।তাদের শিহাব স্যার বলেন,"লোকজ ঐতিহ্যের এসব মূল্যবান জিনিস আজকাল সচরাচর দেখা যায় না। এ ঐতিহ্যগুলাে রক্ষায় আমাদের যত্নবান হওয়া উচিত।
(ক) কোন অঞ্চলের কাঠের নৌকা বেশ নিপুণতার দাবি রাখে?
(খ) বর্তমান যুগে জামদানি শাড়ি দেশে-বিদেশে শুধু পরিচিতই নয়, গর্বের বস্তু।" ব্যাখ্যা কর।
(গ) উদ্দীপকে কলিদের দেখা বস্তুগুলো 'আমাদের লােকশিল্প' প্রবন্ধের কোন উপাদানকে নির্দেশ করে? বর্ণনা কর।
(ঘ) উদ্দীপকের শিহাব স্যারের বক্তব্যে 'আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধের লেখকের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে।বিশ্লেষণ করো।

৩. উদ্দীপক-১; ব্যবসায়ী সুমন অসদুপায় অবলম্বন করে অনেক সম্পদের মালিক হয়। এতেও সে তৃপ্ত নয়। সে আরো সম্পদের নেশায় দিনরাত ভাবতে থাকে। এক সময় সুমন অসুস্থ হয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হয়।
উদ্দীপক-২; আমি সেই জগতে হারিয়ে যেতে চাই
যেথায় লোকে সােনারূপার
পাহাড় জমায় না।
বিত্ত সুখের দুর্ভাবনায় আয়ু কমায় না !
(ক) 'সুখী মানুষ' নাটিকায় ওষুধে কাজ হয় না কেন?
(খ) 'সুখ বড় কঠিন জিনিস।'-বুঝিয়ে লেখো।
(গ) উদ্দীপক-১ এর সুমন 'সুখী মানুষ' নাটিকার যে চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে তা ব্যাখা করো।
(ঘ) "উদ্দীপক-২ এর মূলভাব যেন 'সুখী মানুষ' নাটিকার সুখী মানুষেরই আআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।"---বিশ্লেষণ কর।


কবিতাংশ

যে কোনাে দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও।
৪.অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুনিম। ক্লাসে শিক্ষক যখন পাঠদান করেন তখন সে চুপচাপ শুনে থাকে। তার মনে অনেক প্রশ্ন জাগে কিন্তু সে কোনাে প্রশ্ন করে না, লজ্জা পায়। সবসময় ভয়ে তটস্থ থাকে এবং যে কোনাে কাজে নিজেকে গুটিয়ে রাখে।অপরদিকে সােহেল শিক্ষকের পাঠদানের ফাঁকে প্রয়ােজনীয় প্রশ্ন করে বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে চেষ্টা করে।
(ক) শক্তি কীসের কবলে মরে?
(খ) স্নেহের কথা কীভাবে ব্যথা প্রশমন করতে পারে-- ব্যাখ্যা করো।
(গ) উদ্দীপকের মুনিমের মধ্যে "পাছে লােকে কিছু বলে" কবিতার যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা কর।
(ঘ) উদ্দীপকের সােহেলই 'পাছে লােকে কিছু বলেকবিতার কবির প্রত্যাশিত ব্যক্তি।"- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
৫। দৃশ্যকল্প-১ বিস্তৃত মাঠে পাকা ধান।কৃষকের মুখে ফসলের হাসি।ক'দিন পর কৃষকের ঘরে আনন্দ উৎসব হবে।উৎসবে মেতে উঠবে বাংলার প্রতিটি কৃষকের ঘর।এ যেন চিরায়ত বাংলার অতি পরিচিত চেনা রূপ।
দৃশ্যকল্প-২গোধূলি লগনে জগদীশে স্মরে।
বিদায় লইব জনমের তরে
লুকাইব আমি সন্ধ্যার আঁধারে
বাংলা মায়ের ক্রোড়ে।
(ক) 'সুদর্শন' কী?
(খ) 'জলাঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা বাংলা'- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(গ) দৃশ্যকল্প-১ এর সাথে 'আবার আসিব ফিরে'_ কবিতার কোন দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে ব্যাখ্যা কর।
(ঘ) দৃশ্যকল্প-২ এর মূলভাব এবং আবার আসিব ফিরে' কবিতারর কবির মনোভাব অভিন্ন"- উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।
৬। উচ্চ শিক্ষিত হাসনা বেগম গৃহিনী। সকাল থেকে প্রতিদিন সাংসারিক সকল কাজ নিজেই করেন।তাঁর স্বামী রহমান সাহেব প্রতিদিন অফিস থেকে ফিরে স্ত্রীর বানানো চা খেতে খেতে টেলিভিশন দেখে সময় কাটান।আর কথায় কথায় স্ত্রীকে বলেন তোমারতো কোনো কাজই নেই। সারাদিন ঘরে বসে সময় কাটাও।এমন অবজ্ঞামূলক কথার জবাবে হাসনা বেগম বলেন তোমারগুলো কাজ আর আমারগুলো কাজ না।তুমি কাজ করে টাকা পাও কিন্তু আমি পুরো সংসার পরিচালনা করেও আমার কাজের কোন স্বীকৃতি নেই।
(ক) মহীয়ান শব্দটি 'নারী' কবিতায় কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
(খ) পীড়ন করিলে যে পীড়ন এসে পীড়া দেবে তোমাকেই"--- ব্যাখ্যা কর।
(গ) উদ্দীপকের রহমান সাহেবের মনােভাব 'নারী' কবিতার কোন দিকটিকে নির্দেশ করে?ব্যাখ্যা কর ।
(ঘ) উদ্দীপকের হাসনা বেগম চরিত্রে 'নারী' কবিতার কবির মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। মূল্যায়ন কর ।


নির্মিতি অংশ (মান-৩০)

৭. কোনাে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও।
ক) সারাংশ লেখো : ৫
সূর্যের আলোতে রাতের অন্ধকার কেটে যায়।শিক্ষার আলো আমাদের অজ্ঞতা দূর করে। আমাদের দৃষ্টিতে চারপাশের জগৎ আরো সুন্দর হয়ে ওঠে। আমরা জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে পাই; শিক্ষার আলো পেয়ে আমাদের ভেতরের মানুষটি জেগে ওঠে। আমরা বড় হতে চাই, বড় হওয়ার জন্য চেষ্টা করি। আমরা সুন্দর করে বাঁচতে চাই, বাঁচার মতো বাঁচতে চাই। আর সুন্দর করে বাঁচতে হলে চাই জ্ঞান। সেই জ্ঞানকে কাজেও লাগানো চাই। শিক্ষার ফলে আমাদের ভেতরে যে শক্তি লুকানো থাকে তা ধীরে ধীরে জেগে ওঠে।আমরা মানুষ হয়ে উঠি।

খ. সারমর্ম লেখো :
নমঃ নমঃ নমঃ সুন্দরী মম জননী বঙ্গভূমি!
গঙ্গার তীর, স্নিগ্ধ সমীর, জীবন জুড়ালে তুমি।
অবারিত মাঠ, গগনললাট চুমে তব পদধূলি
ছায়াসুনিবিড় শান্তির নীড় ছোট ছোট গ্রামগুলো।
পল্লবঘন আম্রকানন রাখালের খেলাগেহ,
স্তব্ধ অতল দিঘি কালোজল- নিশীথশীতল স্নেহ।
বুকভরা মধু বঙ্গের বধূ, জল লয়ে যায় ঘরে-
মা বলিতে প্রাণ করে আনচান, চোখে আসে জল ভরে।

৮। যে কোনো একটির ভাব-সম্প্রসারণ কর ।
(ক) জন্মিলে মরিতে হবে অমর কে কোথা কবে
     চিরস্থির কবে নীর হায়রে জীবন নদে?
(খ) সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে।

৯. যে কোনাে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও :
(ক) মনে নয়, তুমি সায়মা। শিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।তােমার ছোট বোন লিমাকে কম্পিউটার শিক্ষার গুরুত্ব বর্ণনা করে একটি চিঠি লেখ।
(খ) মনে কর, তুমি আলভি। তুমি নিয়ামকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তোমার বাবা খুলনায় বদলি হয়েছেন।তাই তোমাকেও তার সঙ্গে যেতে হবে। এজন্য তোমার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে ছাড়পত্র চেয়ে একটি আবেদন পত্র লেখ।

১০। যে কোনাে একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা কর । ১৫x১=১৫
(ক) ছাত্র জীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য
(খ) মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
(গ) দৈনন্দিন জীবন ও বিজ্ঞান।

Friday, November 1, 2019

পরীক্ষায় ফেইল নিয়ে ভাবনা।

আজ থেকে প্রায় পাঁচ সাত বছর আগে মহেশখালি গিয়েছিলাম।রবীন্দ্রনাথের 'ছুটি' গল্পের নায়ক 'ফটিক' এর সমবয়সী এক ছেলেকে দুপুরের প্রচণ্ড তাপদাহে লবণের মাঠে কাজ করতে দেখে তার বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম,"আপনার ছেলে পড়া-লেখা করে না?"
বলল; পড়ত।এখন পড়ে না।আষ্ট কেলাস পর্যন্ত পইরগে।আষ্ট ক্লাসর সরকারি পরীক্ষায় (মানে জে এস সি পরীক্ষায়) অংকে ফেল করার পর আমার সঙ্গে মাঠে নিয়ে এসেছি।আর কি পড়া লেখা করবো।তখন থেকে ভাবছি এটা নিয়ে লিখব,কিন্তু লেখা হয়ে ওঠেনা।মাঝখানে ভুলেই গিয়েছি লিখতে,আজ হঠাৎ মনে পড়লো।
তারপর ভাবছি,,,,,,
এভাবে হয়তো একজন রিকশা ওয়ালার ছেলে জে এস সি পরীক্ষা দিল,সে সব সাবজেক্টে পাশ করেছে শুধু গণিতে ফেইল করেছে।তার ফলে রেজাল্টের পরের দিন বাবা ছেলেকে ডেকে বলেছে তোকে দিয়ে আর পড়া লেখা হবে না,চল তোরে রিকশা চালানো শিখায়।আর বাবা জেলে হলে বলে, চল মাছ ধরানো শিখায়।ড্রাইভার হলে বলবে,গাড়ি চালানো শিখায়।কৃষক হলে বলবে,চল আমাকে সাহায্য করতে ফসলের মাঠে ।কিংবা বলবে, আমি তো এই রকম কাজ করে জীবনটা শেষ করে দিলাম,চল তুই আমার চেয়ে সামন্য একটু উঁচু মানের ভাল কাজ শিখে নেয়।এভাবে একটা ছেলের পড়া লেখার জীবন শেষ হয়ে যায় এবং এভাবে আমাদের সমাজ ওকে পড়া লেখা থেকে বঞ্চিত করে দিল।
অথচ সেই ছেলেটি ক্লাস Nine/Ten/eleven /twelve এ গিয়ে কোন এক ব্যক্তির সংস্পর্শে এসে যে গণিত সাব্জেক্টে এত খারাপ করলো সে গণিত সাব্জেক্টিকে এত ভালো করে বুঝা শুরু করে দিল যে,গণিতই তার একমাত্র ধ্যান জ্ঞান হয়ে উঠল।অনুরূপভাবে গণিত ছাড়া অন্য সাবজেক্টেও একই রকম হতে পারে।যেমন :কেউ বাংলায় ফেল করে,কেউ ইংরেজিতে, কেউ বা বিজ্ঞানে ফেইল করে।আসলে জীবন কখন, কীভাবে যে কার সংস্পর্শে এসে জীবনের mood পাল্টে যায় সেটা কেউ জানে না।কিন্তু আমাদের সমাজ ব্যবস্থা জীবনের mood পাল্টে দেওয়ার আগে জীবনটাকে পাল্টে দিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়।সে জন্য আমি মনে PECE,JSC,SSC,HSC পরীক্ষায় ফেইল বলে কিছু থাকবে না।কেউ যদি একটা সাব্জেক্টে ১০ নাম্বারও পায় সে যেন সে ক্যাটাগরির গ্রেড বিশিষ্ট সার্টিফিকেট পায়।যেমন:
৮০-১০০ =A+
৭০-৭৯ =A
৬০-৬৯ =A-
৫০-৫৯ =B
৪০-৪৯ =C
৩০-৩৯ =D
২০-২৯ =E
১০-১৯ = F(এ গ্রেডটা না দেওয়া ভালো,যেহেতু এ গ্রেডের উপর মানুষের নেগেটিভ ভাব আছে) or Z grade.
এভাবেই ব্যাবস্থা করাই সরকারের উচিত বলে মনে করি।প্রয়োজনে তাকে F বা Z গ্রেড বিশিষ্ট সার্টিফিকেট যেন দেওয়া হয়।এতে করে একজন ছেলে F/Z গেডে হলেও যে HSC পাস করেছে তার একটা ডকুমেন্ট হলেও থাকবে।অন্তত ফেইল করে আত্মহত্যা করা থেকেও অনেকের জীবন বাঁচবে এবং নিজেকে কিছুটা হলেও শিক্ষিত ও আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে।এতে সমাজে শিক্ষিতের সংখ্যা বাড়বে,সমাজ আরো আলোকিত হবে।হয়তো তারাই একদিন তার PECE/JSC ফেইল করা সাব্জেক্টের জন্য জগদ্বিখ্যাত হয়ে যাবে।
তবে HSC পর্যন্ত সব গ্রেড মিলিয়ে যদি সে কম গ্রেড বা মানসম্মত গ্রেড না পায় সে আর উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পাবে না।যেমন: PECE+JSC+SSC+HSC মিলে মোট ১২/১৫ পয়েন্ট বা আলোচনা সাপেক্ষ কোন পয়েন্ট না পায় সে আর উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পাবে না।আগামী বছর থেকে CGPA পদ্ধতিতে রেজাল্ট হবে তাতে ৪০ মার্ক্সে পাস, তাতে তো আরও কঠিন হবে পাস করা।ঝরে পড়বে অসংখ্য শিক্ষার্থী,অজ্ঞতার অন্ধকারে তলিয়ে যাবে অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবন,শিশুর মেরুদণ্ড গড়ে ওঠার আগে পাস পরিমাপের মাপকাঠি দিয়ে ভেঙে দিব তার মেরুদণ্ড।তবে আমি CGPA এর বিপক্ষে নয় ফেইলের বিপক্ষে।
কিছু ছবি কথা বলে....



লেখক ও শিক্ষাবিদ
জহির উদ্দীন।
বি.এ(অনার্স),এম.এ(বাংলা),এলএল.বি।

Most Popular Post