Ad-1

Friday, August 16, 2019

 স্বভাব কবি বলতে যে কবির কবিত্বশক্তি জন্ম থেকে লব্ধ, যে কবি সচরাচর কেবল প্রাকৃতিক শোভা বর্ণনা করেন তাকে বোঝায়। স্ববাসিনী শব্দ থেকে স্বভাব কবি শব্দের উৎপত্তি।

👉গোবিন্দচন্দ্র দাসকে স্বভাব কবি বলা হয়। গোবিন্দচন্দ্র দাস (১৬ জানুয়ারি, ১৮৫৫ - ১ অক্টোবর, ১৯১৮) একজন বাঙালি স্বভাব কবি।

1.‘সাহিত্য সম্রাটকাকে বলা হয় ?---------------উঃ বষ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়।

2. কোনটি কবি ভারতচন্দ্রের উপাধি ? --------------- উঃ রায়গুণাকর।

3. ‘কবিকষ্কণকার উপাধি ? --------------- উঃ মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।

4. ‘রায় গুণাকরকার কাব্য উপাধি ? ---------------উঃ ভারতচন্দ্র।

5. জীবনানন্দ দাশ প্রধানত ?-----------উঃ প্রকৃতির কবি।

6. বাংলা সাহিত্যে স্বভাব কবি হিসাবে পরিচিত ?---------উঃ গোবিন্দ্রচন্দ্র দাস।

7. কোন গ্রন্থটি মোহাম্মদ আকরাম খা রচিত ?-----------উঃ সমাজ ও সমাধান।

8.বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ মহিলা কবি ?--------------উঃ বেগম সুফিয়া কামাল।

9.আকরাম খা রচিত মোস্তফা চরিত গ্রন্থটি ?-------------উঃ সীরাত গ্রন্থ ।

10.বাংলাদেশের নারী শিক্ষার প্রসারে কে অগ্রদূত ?--------------উঃ বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত।

11.বাংলা সাহিত্যে সাহিত্য বিশারদ কার উপাধি ?--------------উঃ আবদুল করিমের।

12. বাংলা সাহিত্যে কাকে ছন্দের জাদুকরবলা হয় ?--------------উঃ সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত।

13. বাংলা সাহিত্যে ভোরের পাখিবলা হয় কাকে ?-----------উঃ বিহারী লাল চক্রবর্তী।

14. অপরাজেয় কথাশিল্পী কার ছন্মনাম ?---------উঃ শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়।

15. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগ খোলা হয় ?------------উঃ ১৮০১ সালে।

16.বাংলা ভাষার প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক কে ?--------উঃ বষ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়।

17. কাকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয় ?-----------উঃ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

18. বাংলাদেশের জাতীয় কবি কে ?-------------উঃ কাজী নজরুল ইসলাম।

19. ‘দত্তকুলোদ্ভবকবি কে ?-----------উঃ মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

20. আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি ?------------উঃ মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

21. ‘পল্লীকবিউপাধি হলো ?------------উঃ জসীমউদ্দীন।

22.‘ মরমী কবি কাকে বলা হয় ?------------উঃ হাসন রাজা।

23.বাংলাদেশে ইসলামী রেনেসার কবি কাকে বলে ?--------------উঃ ফররুখ আহমদ।

24. বাংলা কবিতার আধুনিকতার প্রবর্তক কে ?-----------উঃ মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

25. বহুভাষাবিদ পন্ডিত বলতে কার নাম প্রথমে চলে আসে ?-------------উঃ শহীদুল্লাহ।

26. ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্রাহ ছিলেন প্রধানত ?-----উঃ ভাষাতত্ত্ববিদ।

Wednesday, August 7, 2019

অংশীদারী চুক্তিপত্র দলিল

“অংশীদারী চুক্তিপত্র দলিল”

অত্র চুক্তি নামা দলিল অদ্য ১০/০৪/২০১৩ ইং তারিখে নিম্ন লিখিত পক্ষদ্বয়ের মধ্যে সম্পাদিত হইল।

১. মোঃ কামালউদ্দিন, পিতা-মৃত আব্দুল আজিজ, মাতা-মুত মাবুদা খাতুন, ঠিকানাঃ-১৬১/১০, বাগানবাড়ি, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, ঢাকা, জন্মতারিখ-৩০/০৬/১৯৬২ ইং, জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর- ২৫৪১৪৫৫২৪৭৫৪৫১৫২, জাতীয়তা-বাংলাদেশী, ধর্ম-ইসলাম, পেশা-ব্যবসা।

—— ১ম পক্ষ

২. এবিএম শেহাবউদ্দিন শেহাব, পিতা-মুত হাবিবুর রহমান, মাতা-জামিনা বেগম, ঠিকানা-গ্রাম-রুপাটি, পো-হাট জগদল, থানা+জেলা-মাগুরা-৭৬০০, জন্ম তারিখ-০১/০১/১৯৭৪ ইং, জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর- ২৫৪১৪৫৫২৪৭৫৪৫১৫২, জাতীয়তা-বাংলাদেশী, ধর্ম-ইসলাম, পেশা-ব্যবসা।

—— ২য় পক্ষ

৩. জি এম আক্তার হোসেন, পিতা-মৃত জি এম আবু মুসা, মাতা-মুত নুর জাহান বেগম, ঠিকানাঃ-গ্রাম+পো-বুড়িগোয়ালিনী, উপজেলা-শ্যামনগর, জেলা-সাতক্ষিরা, জন্মতারিখ-৩০/০৬/১৯৬২ ইং, জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর- ২৫৪১৪৫৫২৪৭৫৪৫১৫২, জাতীয়তা-বাংলাদেশী, ধর্ম-ইসলাম, পেশা-ব্যবসা।

——৩য় পক্ষ

৪. এস এম মোস্তফা আল মামুন, পিতা-আলহাজ এস এম মিজানুর রহমান, মাতা-শাহানারা বেগম, ঠিকানাঃ-গ্রাম+পো-গুমান্তলী, উপজেলা-শ্যামনগর, জেলা-সাতক্ষিরা, জন্মতারিখ-০৭/১০/১৯৮৬ ইং, জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর- ২৫৪১৪৫৫২৪৭৫৪৫১৫২, জাতীয়তা-বাংলাদেশী, ধর্ম-ইসলাম, পেশা-ব্যবসা।

——৪য় পক্ষ


পরম করুণাময় মহান আল্লাহ তায়ালার নাম স্মরণ করিয়া অত্র অংশীদারী চুক্তিপত্র দলিলের আইনানুগ বয়ান আরম্ভ করিতেছি। যেহেতু আমরা সকল পক্ষগণ পরস্পর পরস্পরকে দীর্ঘ দিন যাবত চিনি ও জানি। এমতাবস্থায় আমরা সকল পক্ষগণ একত্রে ব্যবসা পরিচালনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করায় আমরা উপরোক্ত পক্ষগণ একমত হইয়া আলাপ আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জটিলতা নিরসনকল্পে অদ্য হাজিরান মজলিশে স্বাক্ষীগণের মোকাবেলায় এই মর্মে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে নিম্ন লিখিত শর্তাবলীর উপর আস্থা রাখিয়া ভবিষ্যৎ জটিলতা নিরসনকল্পে অত্র ব্যবসায়িক চুক্তিপত্র দলিলে আমরা সকল পক্ষগণ সহি স্বাক্ষর করিয়া অত্র ব্যবসায়িক চুক্তিপত্র দলিলে আবদ্ধ হইলাম।

শর্তবলীঃ- ১। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম “নিটিং অয়েল”

২। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঠিকানাঃ প্লট নং-বি-৫১, ঢাকা শিল্প ইন্ডাষ্ট্রিজ নগরী, বিসিক, কেরাণীগঞ্জ ।

৩। ব্যবসার ধরনঃ নিটিং অয়েল, কাটিং অয়েল, গ্রীজ ব্যবহৃত মোবিল প্রক্রিয়াজাত করণ মেসার্স ডেল্টা লুব্রিকেটিং এন্ড কেমিক্যাল ইন্ডাষ্ট্রিজ ।

৪। ব্যবসার উদ্দেশ্যঃ নিটিং অয়েল, কাটিং অয়েল, গ্রীজ ব্যবহৃত মোবিল প্রক্রিয়াজাত করণ মেসার্স ডেল্টা লুব্রিকেটিং এন্ড কেমিক্যাল ইন্ডাষ্ট্রিজ, প্লট নং-বি-৫১, ঢাকা শিল্প ইন্ডাষ্ট্রিজ নগরী, বিসিক, কেরাণীগঞ্জে বিদ্যমান শিল্পটি যৌথভাবে পরিচালনা করা ।

৫। ব্যবসা শুরুর তারিখঃ ১৫/০১/২০১৭ ইং ।

৬। ব্যবসার মেয়াদঃ আইনানুগ রুপে অবসান না হওয়া পর্যন্ত অত্র ব্যবসা চলিবে ।

৭। ব্যবসার মূল অফিস ঢাকা শহরের অবস্থিত থাকিবে, যাহার ঠিকানাঃ-১০২ দয়াগঞ্জ, সূত্রাপুর, জেলা-ঢাকা এবং অন্যান্য স্থানে উভয় পক্ষের লিখিত অনুমোদন লইয়া শাখা অফিস খোলা যাইবে ।

৮। (ক) ব্যবসার অংশীদারগণের পুঁজি ১০,০০,০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা তন্মধ্যে ১ম পক্ষ ৬০% এবং ২য় পক্ষ ৪০% ভাগে বিনোয়োগ করিবে এবং অংশীদারদের মালিকানার অংশ ১ম পক্ষ ৬০% এবং ২য় পক্ষ ৪০% ভাগে থাকিবে ।

(খ) ব্যবসার এককালীন পুঁজি ছাড়াও যে কোন সময় ব্যবসার উন্নতির জন্য পুঁজির পরিমাণ হ্রাস বৃদ্ধি করিতে পারিবেন ।

(গ) রাইয়ান এয়ার ইন্টারন্যাশনাল ১ম পক্ষের একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, তবে অন্যান্য পক্ষ এই প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ব্যবহার করিয়া যৌথ ব্যবসা পরিচালনা করিবেন, সে ক্ষেত্রে ১ম পক্ষকে অন্যান্য পক্ষ হাজী প্রতি লাইসেন্স ফি প্রদান করিবে। আলোকিত প্রজন্ম ল এন্ড ষ্টুডেন্ট কন্সালটেন্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ব্যবহার করিয়া বিদেশে ষ্টুডেন্ট প্রেরণ করিলে ষ্টুডেন্ট প্রতি ৫০০০/= (পাঁচ হাজার) টাকা মূল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জমা করিতে হইবে এবং রাইয়ান এয়ার ইন্টারন্যাশনালের আইডি ব্যবহার করে টিকিট বিক্রি করিলে টিকিট প্রতি ২০০/= (দুইশত) টাকা মূল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জমা করিতে হইবে । যার লভ্যাংশ সকল পক্ষ সমানভাগে প্রাপ্ত হইবেন । ৯। আর অংশীদারী ব্যবসার লাভ ক্ষতির অংশ ১ম পক্ষ ৬০% এবং ২য় পক্ষ ৪০% ভাগে বন্টন করা হইবে ।

১০। প্রত্যেক (১) মাসে অন্তর অন্তর অত্র ব্যবসার লাভ ক্ষতির হিসাব প্রস্তুত করা হইবে অংশ ১ম পক্ষ ৬০% এবং ২য় পক্ষ ৪০% ভাগে হিস্যা পক্ষগণের উপর ন্যস্ত হইবে তবে প্রতি মাসে লাভের শতকরা অংশ ১ম পক্ষ ৬০% এবং ২য় পক্ষ ৪০% ভাগে অত্র ব্যবসা রির্জাভ ফান্ডে জমা থাকিবে ।

১১। ব্যবসায়ের লস বা ক্ষতি বন্টন হবে অংশীদারগণের মূলধনের আনুপাতিক হারে ।

১২। আনুপাতিক ভিত্তিতে উভয় পক্ষ ব্যবসা সংক্রান্ত দায়দায়িত্ব পালন করিবে, তবে সকল পক্ষের সর্বসম্মতিক্রমে –

হজ ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে দায়িত্ব নিন্মরুপ- ১) মোঃ কামালউদ্দিন – চেয়ারম্যান ২) এবিএম শেহাবউদ্দিন শেহাব – পরিচালক ৩) মো: আব্দুল করিম – পরিচালক ৪) এস এম মোস্তফা আল মামুন – পরিচালক ৫) জি এম আক্তার হোসেন – পরিচালক ৬) মো: আজমল হোসেন – পরিচালক

১৩। ব্যবসায়ের হিসাব পরিচালিত হইবে- মোঃ কামালউদ্দিন, এবিএম শেহাবউদ্দিন শেহাব ও জি এম আক্তার এর যৌথ স্বাক্ষরে, তবে টাকা লেন দেনে ২ জনের স্বাক্ষরের মধ্যে ১ম পক্ষ মো: কামালউদ্দিনের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক থাকিবে।

১৪। ব্যবসা চলাকালিন সময়ে আল্লাহ না করুন যদি কোন পক্ষের কেউ মৃত্যুবরন করেন তাহা হইলে মৃত্যুব্যক্তির উত্তরাধিকারীগণ মৃত্যুবরনকারী অংশীদারের অংশ ভোগ করিবেন এবং ঐ অংশের অংশীদার হিসাবে গন্য হইবেন ও সকল প্রকার দায়দায়িত্ব পালন করিবেন ।

Tuesday, August 6, 2019

অংশীদারী ব্যবসা

অংশীদারি ব্যবসায় হলো চুক্তির দ্বারা দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে বৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনের নিমিত্তে যে ব্যবসায় গড়ে উঠে। ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইন অনুসারে, সাধারণ অংশীদারি ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন ২জন ও সর্বোচ্চ ২০জন হবে এবং ব্যাংকিং অংশীদারি ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে ২জন থেকে সর্বোচ্চ ১০জন হবে। চুক্তিই অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি। চুক্তি ছাড়া কোনো অংশীদারি ব্যবসায় হতে পারে না।

১.অংশীদারি ব্যবসায়ের সুবিধাসমূহ আলোচনা কর।

একটি মাঝারি ধরনের সংগঠন হিসেবে অংশীদারি সংগঠনের বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে, যা উক্ত সংগঠনকে ব্যবসায়িক পরিমন্ডলে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। নিম্নে অংশীদারি ব্যবসায়ের উল্লেখযোগ্য সুবিধাসমূহ আলোচনা করা হলো :
১. সহজ গঠন : এ সংগঠনের অন্যতম সুবিধা হলো এটি গঠন করা খুবই সহজ। সদস্যগণ নিজেরা পুঁজি সংগ্রহ করে নিজেদের মধ্যে চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে অংশীদারি সংগঠন গঠন করতে পারে।
২. অধিক পুঁজি : অংশীদারি সংগঠনে একাধিক সদস্য থাকার কারণে একমালিকানা সংগঠনের তুলনায় এর মূলধন বেশি।
৩. যৌথ ব্যবস্থাপনা : অংশীদারি সংগঠনের সদস্যগণ নিজস্ব দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী দায়িত্ব ভাগাভাগি করে যৌথভাবে সংগঠন পরিচালনা করতে পারেন।
৪. দ্রুত সিদ্ধান্ত : সদস্য সংখ্যা সীমিত থাকায় যে কোন জটিল পরিস্থিতিতে সদস্যগণ একত্রিত হয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
৫. নতুন অংশীদার গ্রহণ : ব্যবসায়ের প্রয়োজনে অংশীদারি সংগঠনে নতুন অংশীদার গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। তবে সেক্ষেত্রে সকল অংশীদারের সম্মতিক্রমে চুক্তিসম্পাদন করতে হয়।
৬. গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত : অংশীদারি সংগঠনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সকলের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
৭. ঝুঁকি বণ্টন : অংশীদারি সংগঠনে চুক্তি অনুযায়ী লোকসান ও দায় সকলের মধ্যে বণ্টিত হয়। ফলে ঝুঁকি হ্রাস পায়।
৮. মিতব্যয়িতা : অংশীদারি ব্যবসায়ের সদস্যরা সরাসরি জড়িত থেকে ব্যবসায় পরিচালনা করে বলে মিতব্যয়িতা অর্জন করা সম্ভব।
৯. অধিক গণসংযোগ : অংশীদারি সংগঠনে অধিক সদস্য থাকায় ব্যবসায়ের প্রয়োজনে অধিক গণসংযোগ সম্ভব।
১০. দক্ষ কর্মচারী নিয়োগ : একমালিকানার তুলনায় অংশীদারি সংগঠনের মূলধন বেশি এবং পরিধি ব্যাপক হওয়ায় অধিক বেতন দিয়ে দক্ষ কর্মচারী নিয়োগ করা যায়।
১১. ব্যবস্থাপনায় বিশেষায়ন : অংশীদারি সংগঠনে বিভিন্ন বিভাগে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমাবেশ ঘটে বলে ব্যবস্থাপনায় বিশেষায়ন সম্ভব হয়।
১২. স্বেচ্ছাচারিতা হ্রাস : এ ব্যবসায়ে যৌথ সিদ্ধানত্ম নেয়া হয় বলে একক ব্যক্তির স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ থাকে না এবং সবাই একে অপরের মতামতকে গুরম্নত্ব দেয়।
১৩. ঋণ সুবিধা : অধিক লোক যৌথভাবে সংগঠনের দায় বহন করে বলে ব্যক্তিগতভাবে এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে অংশদারি ব্যবসায় সহজেই অধিক ঋণ সুবিধা পেয়ে থাকে।
১৪. উত্তোলনের সুযোগ : অংশীদারি সংগঠনের সদস্যগণ চুক্তি অনুযায়ী কারবার থেকে নির্ধারিত পরিমান অর্থ উত্তোলন করতে পারে।
১৫. সহজ বিলোপসাধন : অংশীদারি সংগঠন গঠন করা যেমন সহজ তেমনি প্রয়োজনে বিলোপসাধনও সহজে করা যায়।
উপরিউক্ত সুবিধাগুলো ছাড়াও একটি অর্থনৈতিক সংগঠন হিসেবে অংশীদারি সংগঠন আরো নানাবিধ সামাজিক, ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে থাকে।

২. অংশীদারি ব্যবসায়ের অসুবিধাসমূহ আলোচনা কর।

অংশীদারি সংগঠনের অনেকগুলো সুবিধার পাশাপাশি কিছু অসুবিধাও রয়েছে যা নিম্নে আলোচনা করা হলো :
১. অসীম দায় : অংশীদারি সংগঠনের অন্যতম অসুবিধা হচ্ছে অংশীদারদের অসীম দায়। সংগঠনের যে কোন দায়ের জন্য অংশীদারের ব্যক্তিগত স্থায়ী ও অস্থায়ী সম্পত্তি দায়বদ্ধ থাকে।
২. স্থায়িত্বের অনিশ্চয়তা : অংশীদারি সংগঠনের আইনগত পৃথক কোন সত্তা নেই বলেই এর স্থায়িত্ব কম।
৩. সীমিত মূলধন : অংশীদারি সংগঠনের সদস্য সংখ্যা একটি পর্যায় পর্যনত্ম সীমাবদ্ধ এবং যৌথ কোম্পানির তুলানায় কম বলেই এর মূলধন সীমিত।
৪. পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের অভাব : যদিও পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস হচ্ছে অংশীদারি সংগঠনের মূল চালিকাশক্তি। বাসত্মবে অংশীদারি সংগঠনে এর প্রচুর ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়।
৫. পৃথক সত্তার অভাব : অংশীদারি সংগঠনে পৃথক কোন সত্তা নেই, মালিকের সত্তাই ব্যবসায়ের সত্তা। তাই মালিকের অবর্তমানে ব্যবসায় ক্ষতিগ্রসত্ম হয়।
৬. যৌথ দায়িত্বের ঝুঁকি : অংশীদারি সংগঠনে দায়িত্ব যৌথভাবে থাকায় অনেক সময় সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন হয় না। তখন সকলের দায়িত্ব যেন কারো দায়িত্ব নয়-এরূপ অবস্থার সৃষ্টি হয়।
৭. গোপনীয়তার অভাব : অংশীদারি সংগঠন যৌথভাবে ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা হয় বলে ব্যবসায়িক গোপনীয়তা বিনষ্ট হয়।
৮. শেয়ার হসত্মানত্মর নয় : অংশীদারি সংগঠনের শেয়ার অন্যের নিকট বিক্রয় ও হসত্মানত্মর করা যায় না।
৯. সিদ্ধানত্ম গ্রহণে বিলম্ব : অংশীদারি সংগঠনে সকলের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধানত্ম নিতে হয় বলেই সিদ্ধানত্ম গ্রহণে বিলম্ব হয়।
১০. দলবদ্ধ প্রচেষ্টার অভাব : অংশীদারি সংগঠন যদিও একদল সদস্যের সংগঠন কিন্তু বাসত্মবে দলবদ্ধ প্রচেষ্টার অভাব থাকায় অংশীদারি সংগঠন সর্বদা সফল হতে পারে না।
১১. গণ আস্থার অভাব : অংশীদারি সংগঠনের আইনগত সত্তা না থাকায় এর ওপর জনসাধারণের আস্থা অনেক ক্ষেত্রে কম।
১২. অসম মুনাফা বণ্টন : অংশীদারি সংগঠনে অনেক সময় অসম হারে মুনাফা বণ্টন হয়। তাই অনেক সদস্যের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

পরিশেষে বলা যায়, সুবিধার পাশপাশি অংশীদারি সংগঠনে অনেক অসুবিধা রয়েছে। অংশীদারদেরকে ব্যবসায়িক অসুবিধাসমূহ দুর করে ব্যবসায় কার্যে গতি আনতে হয়।

৩. অংশীদারি ব্যবসায় গঠন প্রণালী আলোচনা কর।

চুক্তি সম্পাদানে যোগ্য কতিপয় ব্যক্তি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে তাদের সংগৃহীত মূলধন একত্রিত করে অংশীদারি সংগঠন গঠন করতে পারে। এ গঠন প্রক্রিয়ায় উদ্যোক্তাদেরকে কতগুলো ধারাবাহিক পদক্ষেপ অনুসরণ করতে হয়। নিম্নে তা আলোচনা করা হলো :
১. নির্দিষ্ট সংখ্যক অংশীদার সংগ্রহ : একটি অংশীদারি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করতে হলে উদ্যোক্তাগণকে প্রথমেই অংশীদারি আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক যোগ্য সদস্য সংগ্রহ করতে হবে।
২. চুক্তি সম্পাদন : দ্বিতীয় পর্যায়ে অংশীদারি সংগঠন প্রতিষ্ঠায় একত্রিত ব্যক্তি নিজেদের করণীয় এবং স্বার্থ সংশিস্নষ্ট ভবিষ্যত বিষয়াবলি নিয়ে নিজেদের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পাদন করবেন।
৩. নিবন্ধ : এ পর্যায়ে উদোক্তাগণ সরকার অনুমোদিত নিবন্ধকের দপ্তরে নির্ধারিত ফি প্রদানপূর্বক ব্যবসায়ের নিবন্ধনের জন্য আবেদন করবেন। নিবন্ধক দাখিলকৃত কাগজপত্র দেখে সন্তুষ্ট হলে সংগঠনের নাম তালিকাভুক্ত করবেন।
৪. ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ : এ পর্যায়ে উদ্যোক্তগণ সংশিস্নষ্ট সরকারি অফিস থেকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করবেন।
৫. অন্যান্য সরকারি দপ্তরের অনুমতি : এ পর্যায়ে উদ্যোক্তাগণ ব্যবসায়ের প্রকৃতি অনুযায়ী ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য সংশিস্নষ্ট সরকারি দপ্তর থেকে অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হয়।
৬. ব্যবসায়ের কার্যারম্ভ : উপরোক্ত পদক্ষেপসমূহ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন হলেই উদ্যোক্তাগণ কার্যারম্ভ করতে পারেন। অর্থাৎ এ পর্যায়ে অংশীদারগণ প্রকৃতি অনুযায়ী ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরম্নর মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের প্রচেষ্টা চালাতে পারেন।

৪. চুক্তিই অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি_ ব্যাখ্যা কর।

অংশীদারি আইনে চুক্তির যে অবস্থান এবং সংগঠন পরিচালনায় চুক্তির গুরম্নত্ব ও তাৎপর্য হতে জোরালোভাবে বলা যায় চুক্তিই অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি এবং উদ্যোক্তাদের মধ্যে চুক্তি থেকেই অংশীদারি ব্যবসায়ের জন্ম। কেবলমাত্র মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে কতিপয় ব্যক্তির মিলিত সংগঠনকে অংশীদারি সংগঠন বলা যাবে না, যতক্ষণ পর্যনত্ম তাদের মধ্যে কোন চুক্তিবদ্ধ সম্পর্কের সৃষ্টি না হবে। একটি অংশীদারি কারবারের নিরূপণে সর্বাগ্রেই বিবেচনায় নেয়া হয় অংশীদারি চুক্তিপত্রকে। অর্থাৎ চুক্তিপত্র ছাড়া বা
চুক্তি ব্যতীত অংশীদারী ব্যবসায় গঠন অসম্ভব। এ প্রসঙ্গে নিম্নোক্ত দৃষ্টানত্মগুলো প্রণিধানযোগ্য :
১. জন্মগত অধিকার : পিতার মৃতুর পর সন্তান জন্মগত অধিকার বলে পিতার ব্যবসায় থেকে মুনাফা ভোগ করার অধিকারী। কিন্তু তাদেরকে অংশীদারি সংগঠনের অংশীদার বলা যায় না। কারণ তাদের মধ্যে কোন চুক্তিবদ্ধ সম্মতি নেই।
২. পারিবারিক বন্ধন : পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ একান্নবর্তী হিন্দুু পরিবারের সদস্যগণ পরিবারের সমুদয় সম্পত্তির ভাগীদার হলেও এরূপ ব্যবসায়কে অংশীদারি সংগঠন বলা যাবে না।
৩. পদমর্যাদা : পদমর্যাদা অনুযায়ী কারবারে অবদানের জন্য কর্মকর্তাদেরকে মুনাফার কিছু অংশ প্রদান করা হলেও তাদেরকে অংশীদার বলা যাবে না।
৪. পেশাদারি সংগঠন : পেশাদারী নর্তকী বা গায়িকা হিসেবে কয়েক জনের একটি দল উপার্জিত টাকা সমান ভাগ করে ভোগ করলেও চুক্তির অনুপস্থিতিতে এরূপ সংগঠনকে অংশীদারি সংগঠন বলা যাবে না।
৫. ঋণ চুক্তি : কারবারের ঋণদাতাকে সুদ ছাড়া মুনাফা দেয়ার প্রতিশ্রম্নতি দেয়া হলেও তাকে অংশীদার বলা যাবে না। কারণ তার সাথে অংশীদারি চুক্তি হয়নি।
৬. নাবালক : একজন নাবালককে সুদ বা লাভ ভোগের জন্য সদস্য করা হলেও তাকে অংশীদার বলা যাবে না। এমনকি নাবালক সনত্মান মৃত পিতার সম্পদের অধিকারী হলেও ব্যবসায়ের অংশীদার হতে পারে না।
৭. সমাজসেবা : কতিপয় ব্যক্তি সমাজসেবার উদ্দেশ্যে ব্যবসায় গঠন করলে তাকে অংশীদারি সংগঠন বলা যাবে না। কারণ তাদের মধ্যে অংশীদারি চুক্তি নেই বরং সমাজসেবার উদ্দেশ্য রয়েছে।

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে প্রমাণিত হয় যে, চুক্তিবদ্ধ সম্পর্ক না থাকার কারণে উলেস্নখিত ব্যক্তিগণ অংশীদার নন এবং তাদের দ্বারা সৃষ্ট সংগঠন অংশীদারি সংগঠন নয়। আর এ থেকে বলা যায় চুক্তিই অংশীদারি সংগঠনের মূল ভিত্তি।

৫. অংশীদারি চুক্তিপত্র কী?

একটি সংগঠনের উদ্যোক্তাগণ কারবারের প্রকৃতি, উদ্দেশ্য, মূলধন, কার্যপদ্ধতি, লাভ লোকসান বণ্টন ও পারস্পরিক স্বার্থ সংক্রানত্ম বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধানত্মে ঐকমত্য হলে তাকে চুক্তি বলে এবং উক্ত সিদ্ধানত্ম লিখিত আকারে প্রকাশ করলে তাকে চুক্তিপত্র বলে। অংশীদারি সংগঠনের নাম, ঠিকানা, উদ্দেশ্য, পুঁজি, সদস্যদের বিবরণ, লভ্যাংশ বণ্টন, ব্যবসায় ও হিসাব পরিচালনা, উত্তোলন, বিরোধ মীমাংসা পদ্ধতি, ব্যবসায়ের বিলোপসাধন ও সম্পত্তির মূল্য নিরূপণ ইত্যাদি বিষয়ে সকল অংশীদারের সম্মতি ও সিদ্ধানত্ম যে পত্রে লিপিবদ্ধ করা হয় তাকে অংশীদারি চুক্তিপত্র বলে।

পরিশেষে বলা যায়, অংশীদারি ব্যবসায় গঠনের লক্ষ্যে অংশীদারগণ পারস্পরিক সম্মতিক্রমে ব্যবসায় সংক্রানত্ম বিভিন্ন বিষয় যে দলিলে লিপিবদ্ধ করে তাকেই অংশীদারি চুক্তিপত্র বলে।

৬. অংশীদারি চুক্তিপত্রের বিষয়বস্তুসমূহ বর্ণনা কর।

অংশীদারি চুক্তিপত্র এরূপ ব্যবসায় পরিচালনার ভবিষ্যৎ দিকদর্শন হিসেবে কাজ করে। তাই বিষয়বস্তু এমনভাবে নির্ধারণ করা উচিত যাতে ভবিষ্যতে সৃষ্ট হতে পারে এমন সকল সমস্যার সহজ সমাধান এতে পাওয়া যায়। এ লক্ষে চুক্তিপত্রে সাধারণত নিম্নোক্ত বিষয়সমূহের উলেস্নখ থাকা উচিত :
১. অংশীদারি ব্যবসায় সংগঠনের নাম;
২. ব্যবসায়ের ঠিকানা;
৩. ব্যবসায়ের প্রকৃতি, উদ্দেশ্য ও আওতা;
৪. সংগঠনের স্থান ও সম্ভাব্য এলাকা;
৫. ব্যবসায়ের স্থায়িত্ব;
৬. অংশীদারদের নাম, ঠিকানা ও পেশা;
৭. ব্যবসায়ের মোট মূলধনের পরিমাণ;
৮. অংশীদারদের প্রত্যেকের প্রদত্ত পুঁজির পরিমাণ ও তা পরিশোধ পদ্ধতি;
৯. মূলধনের উপর সুদ দেয়া হবে কি না, হলে কী হারে;
১০. অংশীদারগণ ব্যবসায় হতে কোনো অর্থ উত্তোলন করতে পারবে কি না, পারলে কে কত বা কী হারে পারবে;
১১. উত্তোলিত অর্থের উপর সুদ ধরা হবে কি না, হলে কী হারে;
১২. ব্যবসায়ের লাভ-লোকসান বণ্টন পদ্ধতি ও হার;
১৩. ব্যবসায় পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি;
১৪. ব্যবসায়ের হিসাবরক্ষণ ও হিসাব নিরীক্ষণ পদ্ধতি;
১৫. ব্যবসায়ের হিসাব বহি সংরক্ষণ ও পরিদর্শন সংক্রনত্ম নিয়ম;
১৬. যে ব্যাংকে হিসাব খোলা হবে তার নাম, ঠিকানা ও হিসাবের ধরন;
১৭. ব্যাংক হিসাব পরিচালনাকারীর নাম ও পদবি;
১৮. ব্যবসায়িক দলিলপত্রে স্বাক্ষর প্রদানকারী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের নাম ও পদবী;
১৯. ব্যবসায়িক প্রয়োজনে কোন অংশীদার ঋণ সরবরাহ করলে তার ওপর দেয় সুদের হার;
২০. ব্যবসায়িক প্রয়োজনে অন্যত্র হতে ঋণ সংগ্রহ পদ্ধতি;
২১. অংশীদারগণের অধিকার, দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে বিশদ বর্ণনা;
২২. অংশীদারগণের কোন বেতন বা পারিশ্রমিক দেয়া হবে কি না, হলে কী পরিমাণ;
২৩. ব্যবসায়িক সুনাম মূল্যায়ন সম্পর্কিত বিধিবিধান;
২৪. নতুন অংশীদার গ্রহণ ও প্রয়োজনে বর্তমান কোনো অংশীদারকে বহিষ্কারের নিয়ম;
২৫. কোনো অংশীদারের মৃতু্য বা অবসর গ্রহণকালে ব্যবসায়ের দায় ও সম্পত্তি নিরূপণ এবং পাওনা পরিশোধ পদ্ধতি;
২৬. ব্যবসায়ের আর্থিক বছরের শুরম্ন ও শেষ সময়;
২৭. ব্যবসায়ের বিলোপসাধন পদ্ধতি;
২৮. ব্যবসায়ের বিলোপকালে ব্যবসায়ের দায় ও সম্পত্তি মূল্যায়ন ও তা বণ্টন প্রণালী;
২৯. চুক্তিপত্রের কোনো পরিবর্তনের নিয়ম;
৩০. চুক্তিপত্রের বাইরে অংশীদারদের মধ্যে কোন বিষয়ে বিবাদ দেখা দিলে তা মীমাংসার উপায় ইত্যাদি।

পরিশেষ বলা যায়, উপরিউক্ত বিষয়সমূহ অবশ্যই চুক্তিপত্রে থাকা উচিত। কারণ অংশীদারদের মধ্যকার গঠনকালীন বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বিশ্বাস ভবিষ্যতে নাও হতে পারে। তখন চুক্তিপত্র মীমাংসার প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। আদালতে চুক্তিপত্রই প্রামাণ্য দলিল হিসাবে গ্রহণযোগ্য। তবে উক্ত বিষয় ছাড়া অন্য কোনো কারণে অংশীদারদের মধ্যে বিবাদ হলে তা ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করতে হয়।

Wednesday, July 31, 2019

জে এস সি বাংলা প্রস্তুুতি মডেল টেস্ট-০৬

সূত্র[flah ylraey - 9102]
বিষয় : বাংলা
শ্রেণি : অষ্টম।
পূর্ণমাণ: ১০০ সময় : ৩ ঘণ্টা
নিচের নৈর্ব্যক্তিকগুলো থেকে সঠিক উত্তরটি বাচাই করে খাতায় লেখো : ১*৩০=৩০


৬. বঙ্গবন্ধু কোথায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলার কথা বলেন?
i) প্রত্যেক গ্রামে ii) প্রত্যেক মহল্লায় iii) প্রত্যেক শহরে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i খ. i ও ii গ. iii ঘ. ii ও iii
৭.রহমত ও হাসু কয় গ্রাম খুঁজেও একজন সুখী মানুষ পেল না?
ক. ৫ খ. ৪ গ. ১০ ঘ. ৮
৮. প্রাচীন আরাকান রাজ্যের পরিধি ছিল—
i) ফেনী নদী থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত।
ii) ফেনী নদী থেকে আন্দামান পর্যন্ত
iii) ফেনী নদী থেকে আন্দামানের কাছাকাছি বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. iii ঘ. i, ii ও iii
৯.কবি স্বদেশকে কী হিসেবে কল্পনা করেছেন?
ক. দেবতা খ. মা গ. সন্তান ঘ. ভগ্নী
নিচের কবিতাংশ পড়ে ১০ ও ১১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও :
আমার দেশের মাটি, ও ভাই আমার দেশের মাটি
আকুল করা গন্ধে ভরা, যেন শীতল পাটি,
চোখ ধাঁধানো রূপ মাধুরী মনটা নিল কেড়ে,
আমার সকল ভালোবাসা এই বাংলার তরে।
১০. কবিতাংশটিতে ফুটে উঠেছে—
i) স্বদেশের প্রতি দুর্বলতা ii) স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা iii) স্বদেশের প্রতি প্রতিদান
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. ii খ. iii গ. i ও iii ঘ. ii ও iii
১১. কবিতাংশে উল্লিখিত রূপ মাধুরী নিচের কোন চরণে স্পষ্ট?
ক. মধুহীন করোও না গো তব মনঃকোকনদে
খ. মক্ষিকাও গলে না গো পড়িলে অমৃত হ্রদে
গ. অমর করিয়া বর দেহ দাসে, সুবরদে!
ঘ. মধুময় তামরস কী বসন্ত কী শরদে!
১২. ভীতির কবলে পড়ে কিসের মৃত্যু ঘটে?
ক. সক্ষমতার খ. শক্তির। গ. প্রত্যাশার ঘ. আকাঙ্ক্ষার
১৩.‘নারী’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
ক. দোলনচাঁপা খ. অগ্নিবীণা গ. সর্বহারা ঘ. সাম্যবাদী
১৪. যুদ্ধ শেষ হলে কত সালে বাংগালী পল্টন ভেঙ্গে দেয়া হয়?
ক) ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দের খ)১৯১৯খ্রিস্টাব্দে গ) খ্রিস্টাব্দে ঘ) ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে
১৫. আঞ্চলিক ভাষার অপর নাম কি?
ক) বিদেশী ভাষা খ) চলিত ভাষার গ) উপভাষা ঘ) সাধু ভাষায়়
১৬. বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণমাত্রা, অর্ধমাত্রা ও মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা যথাক্রমে---
ক) ৩২,৮,১০। খ) ৩২,৮,১১
গ) ৩২,৮,৯। ঘ) ৩২,৮,১২
১৭. ও, ঔ, বর্ণ দুটির উচ্চারণের স্থান কোনটি?
ক) কণ্ঠ ও ওষ্ঠ। খ) কণ্ঠ ও তালু
গ) দন্ত ও ওষ্ঠ। ঘ) তালু ও ওষ্ঠ।
১৯. নীরব --এর সঠিক বিশেষণ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
ক) নী:+রব। খ) নি:+রব। গ) নি:+রব। ঘ) নী:+রব
২০. 'সাইরেন বেজে উঠল বেজে উঠল'- বাক্যে কোন ধরনের ক্রিয়া?
ক) সমাপিকা খ) অসমাপিকা গ) প্রযোজক। ঘ) যৌগিক
২১. ‘স্বাগত’-এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
ক. স্ব + আগত খ. সুব + আগত
গ. সু + আগত ঘ. স্ব + গত
২২. অ + আ = আ—এই সূত্রের সন্ধিজাত শব্দ কোনটি?
ক. নবান্ন খ. জলাশয়
গ. কথামৃত ঘ. মহাশয়
২৩. নিচের কোন শব্দটি নিত্য পুরুষবাচক?
ক. ময়ূর খ. শিশু গ. মোরগ ঘ. কবিরাজ
২৪. বহুবচন গঠনে নিচের কোনটি যথার্থ?
ক. মেঘপুঞ্জ খ. ছাত্রপুঞ্জ গ. বালুপুঞ্জ ঘ. পক্ষিপুঞ্জ
২৫. ভাববাচক বিশেষ্যের উদাহরণ কোনটি?
ক. সংঘ খ. মালা গ. গীতাঞ্জলি ঘ. দর্শন
২৬. কোনটি মৌলিক ধাতু?
ক. হাত খ. ঘুম গ. দেখ্ ঘ. করা
২৭. নিত্যবৃত্ত অতীত কোনটি?
ক. তুমি পড়তে থাকবে খ. আমি সেখানে রোজ যেতাম
গ. তুমি সেখানে গিয়েছিলে ঘ. আমি লিখে থাকব
২৮. সদা সত্য কথা বলিবে—এটি কোন ভবিষ্যৎ?
ক. ঘটমান ভবিষ্যৎ খ) পুরাঘটিত ভবিষ্যত
গ) নিত্যবৃত্ত অতীত। ঘ) সাধারণ ভবিষ্যত।
২৯. বিশেষ্য, বিশেষণ ও অনুকার অব্যয়ের পরে আ-প্রত্যয় যোগে গঠিত হয় কোন ধাতু?
ক) নাম ধাতু খ) সাধিত ধাতু গ) প্রযোজক ধাতু ঘ) কর্মবাচ্যের ধাতু
৩০. দ্বিরুক্ত শব্দ কে কয় ভাগে ভাগ করা যায়? ক) এক প্রকার। খ) দুই প্রকার। গ) তিন প্রকার ঘ) চার প্রকার

সৃজনশীল অংশ
নিচের প্রশ্নগুলো থেকে ক-বিভাগ থেকে ২টি ও খ-বিভাগ থেকে ২টি মোট ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও।
ক-বিভাগ :
১. রিমা পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় পরীক্ষা খারাপ হবে এবং শূন্য পাবে এই আশঙ্কায় ডিম খেতে চায় না। তার শিক্ষিত মা তাকে বুঝান ডিম খাওয়ার সাথে পরীক্ষায় শূন্য পাবার কোন সম্পর্ক নেই। মায়ের কথায় রিমা ডিম খেয়ে পরীক্ষা দিতে যায় এবং পরীক্ষা ভালো হয়।এতে রিমার ভুল ভাঙ্গে।
ক) 'তৈল চিত্রের ভূত' গল্পটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
খ) " তুমি একটি আস্ত গর্দভ নগেন"- উক্তিটির কারণ কী?
গ) উদ্দীপকের রিমার সাথে 'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পের নগেনের যে দিক দিয়ে সাদৃশ্য রয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ) উদ্দীপকের রিমার মা আর 'তৈল চিত্রের ভূত'- গল্পের পরাশর ডাক্তার উভয়ই আধুনিক মানসিকতার অধিকারী'- উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো।
২. পলাশপুর গ্রামের রহিমা। দরিদ্র হলেও শিল্পী মনের অধিকারী। ছোটবেলা থেকেই সে বাঁশ,বেত দিয়ে সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিস তৈরি করতো। কিন্তু আচমকা একদিন তার স্বামী মারা গেলে। দুই সন্তান নিয়ে পথে বসে রহিমা। উপায়ান্তর না দেখে অবশেষে সুঁই-সুতা হাতে তুলে নেয় সে। তার সুখ দুঃখের জীবনালেখ্য রহিমার দীঘল সুতার টানে ভাষা দিতে থাকে। একদিন বেসরকারি একটি সংস্থার মাধ্যমে তার সূচিশিল্প গুলো যায় বিদেশে এবং মোটা অংকের অর্থ প্রাপ্তির পাশাপাশি প্রচুর সুনাম অর্জন করে।
ক) খাদি কাপড়ের বিশেষত্ব কি?
খ) জামদানি শাড়িকে গর্বের বস্তু বলা হয়েছে কেন?
গ) স্বামীর মৃত্যুর পর রহিমার কাজটি 'আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধে কিসের প্রতিনিধিত্ব করে বর্ণনা করো।
ঘ) দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে রহিমার অবদান 'আমাদের লোকশিল্প'- প্রবন্ধের আলোকে মূল্যায়ন করো।
৩.বিলেতের এক পন্ডিত দেশভ্রমণ দ্বারা অগাধ জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। গ্রীক দেশ থেকে ফিরে এসে তিনি আরম্ভ করলেন মালির কাজ, যা তুমি আমি করতে লজ্জা বোধ করব। তাতে কি তার জাত গিয়েছিল? যার মধ্যে জ্ঞান ও গুণ আছে, সে কয়দিন নিচে পড়ে থাকে? লোকে তাকে সম্মান করে উপরে টেনে তুলেই।
ক) যিনি ভাবের বাঁশি বাজিয়ে জনসাধারণকে নাচাবেন তবে কেমন হতে হবে?
খ) ভাব ওকাজের সম্পর্ক কী?বুঝিয়ে লেখো
গ) উদ্দীপকটি 'ভাব ও কাজ'- প্রবন্ধের যে দিকটি নির্দেশ করে তা বর্ণনা কর।
ঘ) ' যার মধ্যে জ্ঞান ও গুন আছে, লোকে তাকে সম্মান করে উপরে টেনে তোলেই'- উক্তিটি 'ভাব ও কাজ' প্রবন্ধের আলোকে মূল্যায়ন করো।

খ-বিভাগ
৪.ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা) প্রজাদের অবস্থা উপলব্ধি করার জন্য রাতের অন্ধকারে ছদ্মবেশে নগরে নগরে ঘুরে বেড়াতেন।একদিন এক দুঃখিনী মায়ের সকরুণ অবস্থা দেখে তিনি নিজের কাঁধে করে খাদ্যের বোঝা বহন করে দুখিনী মায়ের ঘরে পৌঁছে দিলেন।
ক) সম্রাট বাবুর কত বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহন করেন?
খ) 'বীরভোগ্যা ও বসুধা এ কথা সবাই কয়'- বলতে কি বুঝ?
গ) উদ্দীপকের খলিফা ওমর (রা) এর সাথে সম্রাট বাবুরের যে সাদৃশ্য প্রতিফলিত হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ) উক্ত সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটিই বাবুরের একমাত্র বৈশিষ্ট্য নয়- 'বাবুরের মহত্ত্ব'- কবিতার আলোকে মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।
৫. 'আম্মা' দেশের এরকম অবস্থায় তুমি যদি আমাকে জোর করে আমেরিকায় পাঠিয়ে দাও, আমি হয়তো যাবো শেষ পর্যন্ত। কিন্তু আমার বিবেক চিরকালের মতো অপরাধী করে রাখবে আমাকে। আমেরিকা থেকে হয়তো বড় ডিগ্রী নিয়ে এসে বড় ইঞ্জিনিয়ার হব ;কিন্তু বিবেকের ভ্রুকুটির সামনে কোনদিনও মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবো না। তুমি কি তাই চাও আম্মা?' আমি জোরে দুই চোখ বন্ধ করে বললাম, 'না, চাইনে। ঠিক আছে, তোর কথাই মেনে নিলাম দিলাম।দিলাম তোকে দেশের জন্য কোরবানি করে।যা, তুই যুদ্ধেই যা।'
ক) 'মক্ষিকা' শব্দের অর্থ কি?
খ) 'রেখো, মা, দাসেরে মনে'- কবি একথা কেন বলেছেন?
গ) উদ্দীপকের সন্তান কোন দিক থেকে 'বঙ্গভূমির প্রতি'-কবিতার কবির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
ঘ) উদ্দীপকের ভাববস্তু ' বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতার সামগ্রিক দিক নয় --মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করা।
৬. রমিজ মিয়া সমাজের ভালো কাজ সহ্য করতে পারে না। কেউ ভালো কাজে হাত দিলে সে বাঁধা প্রদান করে। সরাসরি বাধা দিতে না পারলেও গোপনে সেই ব্যক্তির সমালোচনা করে, যাতে কাজ করা থেকে বিরত থাকে সে। এভাবে সে সমাজের বহু উদ্যোগী মানুষকে ভালো কাজ করা থেকে বিরত রেখেছে। তাই গ্রামের সবাই ভালো কাজ করার আগে রমিজ মিয়ার কথা স্মরণ করে ভয় পায়।
ক) 'প্রশমিতে'-শব্দটির অর্থ কি?
খ) 'শক্তি মরে ভীতির কবলে' বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? ব্যাখ্যা করো
গ) উদ্দীপকের রমিজ মিয়া 'পাছে লোকে কিছু বলে'- কবিতার কার প্রতীক? আলোচনা কর।
ঘ) 'উদ্দীপকের রমিজ মিয়াদের মতো লোকের কারণে সমাজে ভালো কাজ হয় না।'--'পাছে লোকে কিছু বলে'- কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।
৭. ক) সারাংশ লেখো : ৫
বাঙালি যেদিন ঐক্যবদ্ধ হয়ে বলতে পারবে—‘বাঙালির বাংলা’ – সেদিন তারা অসাধ্য সাধন করবে। বাঙালির মতো জ্ঞানশক্তি ও প্রেমশক্তি (ব্রেন সেন্টার ও হার্ট সেন্টার) এশিয়ায় কেন, বুঝি পৃথিবীতে কোনো জাতির নেই। কিন্তু কর্মশক্তি একেবারে নেই বলেই তাদের এই দিব্যশক্তি তমসাচ্ছন্ন হয়ে আছে। তাদের কর্মবিমুখতা, জড়ত্ব, মৃত্যুভয়, আলস্য, তন্দ্রা, নিদ্রা ব্যবসা-বাণিজ্যে অনিচ্ছার কারণ। তারা তামসিকতায় আচ্ছন্ন হয়ে চেতনাশক্তিকে হারিয়ে ফেলেছে। এই তমঃ, এই তিমির, এই জড়ত্বই অবিদ্যা। অবিদ্যা কেবল অন্ধকার পথে, ভ্রান্তির পথে নিয়ে যায়; দিব্যশক্তিকে নিস্তেজ, মৃতপ্রায় করে রাখে।
অথবা,
খ) সারমর্ম লেখো :
এই যে বিটপী-শ্রেণি হেরি সারি সারি—
কী আশ্চর্য শোভাময় যাই বলিহারি!
কেহ বা সরল সাধু-হৃদয় যেমন,
ফল-ভরে নত কেহ গুণীর মতন।
এদের স্বভাব ভালো মানবের চেয়ে,
ইচ্ছা যার দেখ দেখ জ্ঞানচক্ষে চেয়ে।
যখন মানবকুল ধনবান হয়,
তখন তাদের শির সমুন্নত রয়।
কিন্তু ফলশালী হলে এই তরুগণ,
অহংকারে উচ্চশির না করে কখন।
ফলশূন্য হলে সদা থাকে সমুন্নত,
নীচ প্রায় কার ঠাঁই নহে অবনত।
৮. ভাব-সম্প্রসারণ (যেকোনো ১টি) ৫
ক) বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর।
অথবা, খ) লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু
৯. ক. মনে করো তোমার নাম নিবিড়। তোমার বন্ধুর নাম রাহুল। সে খুলনায় থাকে। বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তার কাছে একটা পত্র লেখো। ৫
অথবা,
খ. মনে করো তুমি রূপনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। তোমার নাম রিহান। শিক্ষা সফরের গুরুত্ব উল্লেখ করে তোমার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নিকট শিক্ষা সফরে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে একখানা আবেদনপত্র লেখো।
১০. যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : ১০
ক) ছাত্র জীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য (ভূমিকা,ছাত্রজীবন, ছাত্র জীবনের লক্ষ্য, ছাত্রজীবনের কর্তব্য, নিয়মানুবর্তিতা, খেলাধুলা ও ব্যায়াম, উপসংহার)।
খ) ট্রেনে ভ্রমণ : [সংকেত : ভূমিকা, ভ্রমণ কী? ভ্রমণের পথসমূহ, ট্রেনে ভ্রমণের শুরু, ট্রেনের ভেতরের অবস্থা, বিভিন্ন স্টেশন, ট্রেন থেকে উল্লেখযোগ্য স্থান, শেষ স্টেশন, উপসংহার।]
গ) দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান : [সংকেত : সূচনা, দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান, শহুরে জীবনে বিজ্ঞান, গ্রামীণ জীবনে বিজ্ঞান, দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞানের প্রভাবের অপকারিতা, উপসংহার।]

অংকে ১০০ তে ১০০ পাওয়ার কাহিনী :

কথা হচ্ছিল একটা স্টুডেন্টের সঙ্গে আরেকটা স্টুডেন্টের অংকে ১০০ তে ১০ মার্কস পাওয়া নিয়ে।
স্টুডেন্ট:স্যার, অমুক নাকি অমুক স্কুলে থাকা অবস্থায় ১০০তে ১০০ বা ৯০ বা ৯৫ পেত।অথচ আমাদের স্কুলে এসে ১০০ তে সে ১০ ও পাচ্ছে না।এটা কিভাবে সম্ভব?
আমি:এত ছোট বাচ্চা, তুমি ওগুলো বুঝবে না।
স্টুডেন্ট: স্যার,বুঝায়ে বলেন না,স্যার? বুঝবো তো।
আমি : আচ্ছা বলছি,ওগুলো হলো কিছু কিছু বেসরকারি স্কুলে ঐ রকম নাম্বার দিয়ে দেয়।কারণ,মার্ক্স কম দিলে ঐ প্রতিষ্ঠানেরই ক্ষতি ও বদনাম।তাই বেশি বেশি করে নাম্বার দিয়ে দেয়।
স্টুডেন্ট : (স্টুডেন্ট নাছোড় বান্দা) কি রকম ক্ষতি স্যার।
আমি : তুমি এত প্রশ্ন কর যে,তোমার যন্ত্রণা আর সহ্য করা যাচ্ছে না।আচ্ছা বলছি তাহলে,শুন,
ঐ ছেলেটা যে প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছিল সেখানকার ক্লাস টু- থ্রি-ফোরের ভর্তি ফি প্রায় পঞ্চাশ হাজার থেকে এক লক্ষ টাকা কোন কোন প্রতিষ্ঠানে আরও কম বা বেশি হতে পারে।এরপর প্রতি মাসে বেতন দশ থেকে বার হাজার টাকা।যাতায়াত ভাড়া ৫০০০ টাকা।বাসায় টিচার রাখলে তার বেতন ৬০০০-৭০০০ টাকা।সব মিলিয়ে ঐ ছেলেটার পিছনে প্রতি মাসে প্রায় পঁচিশ থেকে তিরিশ হাজার টাকা খরচ হয়।অবশেষে সেই ছেলেটা যখন ছয় মাস পর মিড টার্ম পরীক্ষায় কয়েকটা সাবজেক্টে ফেল করে বা কম মার্ক্স পায়,তখন সর্বপ্রথম সবচেয়ে বেশি কষ্ট পায় তার বাবা-মা।আক্ষেপ করে মা-বাবা প্রথমেই বলতে থাকে,তোর জন্য প্রতি মাসে এত টাকা খরচ করছি, আর তুই পরীক্ষায় এ নাম্বার আমাদের উপহার দিলি।বুঝছি তোর এই স্কুলে কোন উন্নতি হচ্ছে না।ফলে অভিভাবকরা অনেক সময় তার সন্তানকে ঐ স্কুল ছাড়িয়ে নিয়ে যায় অন্য স্কুলে।এরপর তার এ নাম্বার প্রাপ্তিতর অখুশি হয় হাউস টিউটর,তার আত্মীয় স্বজন সর্বোপরি স্কুল কর্তৃপক্ষ।
কারণ শিক্ষার্থী চলে গেলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয় স্কুল কর্তৃপক্ষের।তাই স্কুল কর্তৃপক্ষ খুঁজ নেয়, এ স্টুডেন্টার ফেইল করার প্রধান কারণ কী?কেন সে ফেইল করছে? সর্ববোপরি এই ফেইল করাচ্ছেটা কে?
খুঁজতে গিয়ে খুঁজে পায়,এর জন্য দায়ী ঐ স্কুলের সাব্জেক্ট টিচার।তখন কর্তৃপক্ষ ঐ টিচারকে বিভিন্নভাবে প্রেসার দেয় স্টুডেন্টকে পরীক্ষায় বেশি বেশি নাম্বার দেওয়ার ও বেশি বেশি পাস করানোর।ফলে সাব্জেক্ট টিচার চিন্তা করে কী দরকার আমার এতো রিস্ক নেওয়ার? নাম্বার তো আর আমি আমার দাদার সম্পত্তি বিক্রি করে দিচ্ছি না।বরং নাম্বার দিলে দাদার সন্দুকে আরও সম্পদ বেড়ে যাবে।তাই নিজের বিবেকটাকে এক পাশে রেখে ঐ টিচার স্যকারাইনযুক্ত নাম্বার দিয়ে দেয়।
স্যাকারাইন যুক্ত এ জন্য বললাম যে,ব্যবসা করতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের যে পণ্যে বেশি চিনির প্রয়োজন সে পণ্যে সে পরিমাণ চিনি দিতে গেলে ব্যবসায়ীকে সে পণ্যের কমপিটেটিভ ব্যবসায় লস গুণতে হবে।তখন সে ব্যবসায়ীরা নাকি তাতে স্যাকারাইন ব্যবহার করে,কারণ ১০০ কেজি চিনির সমান ১ কেজি স্যাকারাইন।
তাই শিক্ষক স্টুডেন্টকে স্যাকারাইন যুক্ত নাম্বার দিয়ে ১০ পাওয়ার উপযুক্ত স্টুডেন্টকে ৯০/১০০ নাম্বার করে দিয়ে দেয়।কিভাবে দিয়ে দেয়,সেটা সে শিক্ষক ছাড়া অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে দেখলেও অন্য কারো জানার কথা নয়।ফলশ্রুতিতে সাব্জেক্ট টিচার খুশি,কর্তৃপক্ষ খুশি,অভিভাবক খুশি,আত্মীয়-স্বজন খুশি,সর্বোপরি হাউস টিউটরও খুশি।এই খুশি চক্রের কবলে স্টুডেন্ট তো আরও খুশি।
কিন্তু সে স্টুডেন্ট যখন বড় হয়ে ক্লাস ফাইভ বা কোন বোর্ড পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে চায় তখন তার অবস্থা বারটা বেজে যায়।তখন অভিভাবক মাঝে মাঝে জিজ্ঞেস করে, স্যার, ছেলেটা এখন অঙ্কে বা অমুক সাব্জেক্টে খুবই কম মার্কস পাচ্ছে কেন? ও তো আগে বা ছোট বেলায় খুব ভালো ছিল,জানেন স্যার, ও ছোট বেলায় বা অমুক স্কুলে থাকতে অঙ্কে বা অন্য সাব্জেক্টে ১০০ তে ১০০/৯০/৯৫ পেত।
তখন স্যার মনে মনে স্যাকারাইন যুক্ত নাম্বারের কথা ভাবে,আর মুখে বলে,ও তো আগে ছোট ছিল,ক্লাসও ছোট ছিল,এখন বড় ক্লাস বড় অংক,তাই হয়তো মাথায় কম ডুকতেছে বা বুঝতেছে।তাই বড় ক্লাসে গেলে নাম্বার একটু স্বাভাবিকভাবেই কমে যাবে।এই বলে অভিভাবকদের সান্ত্বনা পুরস্কার দিয়ে দেওয়া হয়।ইতোমধ্যে যে, তাকে স্যাকারাইন নাম্বার খাওইয়া তার মাথা নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে,তা কেউ এক বিন্দুও স্বীকার করবে না।
তো এখন কেন শিক্ষক সেই স্যাকারাইন নাম্বার দিচ্ছেন না?
কারণ সামনে যে বোর্ড পরীক্ষা ওখানে যে স্যাকারাইন নাম্বারের কোন মূল্য নেই।।
এ লেখার উদ্দেশ্য হলো,আপনার সন্তানের স্যাকারাইন নাম্বারে আপনি স্যাকারাইন খুশি না হয়ে সন্তান আসলে অত নাম্বার পাচ্ছে কিনা কিংবা উপযুক্ত কিনা তা বিবেচনা করুন।এবং তার যথাযথ গ্রোথ হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে চিন্তা করুন।বেসরকারি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের ভেজাল মার্কা স্যাকারাইন নাম্বার নিয়ে সন্তুষ্ট না হয়ে প্রকৃত পক্ষে সে কত মার্ক্স পাওয়ার উপযুক্ত তা বিচার করুন।প্রয়োজনে পরীক্ষার খাতায় শিক্ষককে বলুন কম নাম্বার দিতে। বেশি স্যাকারাইন নাম্বার পেয়ে ও খেয়ে যেন তার মাথা নষ্ট না হয় সে দিকে লক্ষ রাখুন।সে সঙ্গে লক্ষ রাখুন,সন্তান আসলে বুঝে বুঝে পড়তেছে নাকি তোতা পাখির মতো মুখস্থ করতেছে।তাহলেই আপনার সন্তানের ভবিষ্যত উজ্জ্বল হবে বলে আমি মনে করি।

Most Popular Post